নিজস্ব সংবাদদাতা : মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ও বৃষ্টির দাপটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বংশীহারী ব্লক ও বুনিয়াদপুর পুর এলাকা। ঝড়ের তাণ্ডবে একাধিক পঞ্চায়েত এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে, বিদ্যুৎ পরিষেবা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং বিস্তীর্ণ এলাকার সবজিখেত জলের তলায় চলে যায়। রাতভর আতঙ্কে কাটে সাধারণ মানুষের।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতির খবর মিলেছে মহাবাড়ি, গাঙ্গুরিয়া, ব্রজবল্লভপুর ও এলাহাবাদ পঞ্চায়েত এলাকা থেকে। ঝড়ের দাপটে বহু বড় গাছ ভেঙে রাস্তায় পড়ে যাওয়ায় বেশ কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে বনদপ্তরের কর্মীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় গাছ কেটে রাস্তা পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন। বুনিয়াদপুর পুরসভার নারায়ণপুর এলাকার রাজ্য সড়কে পড়ে থাকা একাধিক সরকারি গাছ সরাতে দেখা যায় বনকর্মীদের।
অন্যদিকে, ঝড়-বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এলাকার কৃষকরা। পটল, লঙ্কা, শসা-সহ বিভিন্ন সবজিখেত জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেতেই সম্পূর্ণ ফসল নষ্ট হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি ঝড়ের দাপটে গাছ থেকে প্রচুর আম ঝরে পড়েছে। বহু পাখির বাসাও নষ্ট হয়েছে, ডিম ও ছানাসহ মারা গিয়েছে অসংখ্য পাখি।ব্রজবল্লভপুর পঞ্চায়েতের ভাইয়োর গ্রামের কৃষক খগেন সরকার জানান, রাতের ঝড়ে তাঁর তিনটি ইউক্যালিপ্টাস গাছ ভেঙে পড়েছে এবং এক বিঘা পটলখেত পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
তাঁর কথায়, “আমার মতো বহু কৃষকের সবজিখেত শেষ হয়ে গিয়েছে। আমের যা ফলন ছিল, তাও ঝড়ে নষ্ট হয়েছে। আমরা বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়লাম।”ঝড়ের জেরে বংশীহারী ব্লক ও বুনিয়াদপুর পুর এলাকার বহু জায়গায় দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ ছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। বংশীহারী ব্লক প্রশাসন ঘরবাড়ির কোনও ক্ষতি হয়েছে কিনা, তা নিয়েও খোঁজখবর শুরু করেছে।
এদিকে, বুনিয়াদপুর শহরের কালীমন্দির সংলগ্ন জাতীয় সড়কের ধারে একটি বড় কদম গাছ পড়ে থাকতে দেখা গেলেও, স্থানীয়দের অভিযোগ, তা সরানোর ক্ষেত্রে পুরসভার তৎপরতা তেমন চোখে পড়েনি। ফলে যান চলাচলেও সমস্যা তৈরি হয়।

Recent Comments