back to top
Saturday, May 30, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeবিনোদননেটপাড়ায় শোকের ছায়া! সম্পর্কের টানাপোড়েন নাকি অন্য কিছু? না ফেরার দেশে জনপ্রিয়...

নেটপাড়ায় শোকের ছায়া! সম্পর্কের টানাপোড়েন নাকি অন্য কিছু? না ফেরার দেশে জনপ্রিয় ভ্লগার ‘সুন্দরীর দিদি’ সায়নী

সোশাল মিডিয়া (Social Media)-র দুনিয়ায় অত্যন্ত পরিচিত ও হাসিখুশি এক মুখ ছিলেন তিনি। ফেসবুক কিংবা ইউটিউব খুললেই যাঁর মিষ্টি হাসি আর তাঁর আদরের পোষ্য গরু ‘সুন্দরী’-র (Sundari) খুনসুটি লাখো মানুষের মন ভালো করে দিত, সেই প্রাণবন্ত তরুণী সায়নী চক্রবর্তী (Sayoni Chakraborty) আর নেই। সমাজমাধ্যম এবং পুলিশ সূত্রে খবর, নিজের বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয়েছে এই জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর (Content Creator)-এর নিথর দেহ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, মানসিক অবসাদ সহ্য করতে না পেরেই আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন সায়নী।

​সবেমাত্র আইন নিয়ে পড়াশোনা (LLB) শেষ করেছিলেন তিনি। সেই সাফল্যের আনন্দ অনুগামীদের সঙ্গে ভাগও করে নিয়েছিলেন। কিন্তু তার কয়েকদিনের মধ্যেই এই মর্মান্তিক পরিণতি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁর অনুরাগীরা। সায়নীর এই আচমকা চলে যাওয়া ডিজিটাল দুনিয়ায় এক বিরাট শূন্যতা ও গভীর শোকের আবহ তৈরি করেছে।

​২৪ ঘণ্টা আগেও আপলোড হয়েছে ভিডিও! কেন এই চরম সিদ্ধান্ত?

​সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, মৃত্যুর মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগেও সায়নী ও তাঁর মা মলি চক্রবর্তী (Moli Chakraborty)-র পেজ থেকে পোষ্যদের নিয়ে একটি মিষ্টি ভিডিও আপলোড করা হয়েছিল। ক্যামেরার সামনে সবসময় ইতিবাচক বার্তা ছড়ানো সায়নী যে ভেতরে ভেতরে এতটা ভেঙে পড়েছিলেন, তা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি কেউ।

​পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্যামেরার সামনে চওড়া হাসি ধরে রাখলেও ব্যক্তিগত জীবনে আদতে ভালো ছিলেন না সায়নী। দীর্ঘদিন ধরে এক গভীর মানসিক অবসাদে (Mental Depression) ভুগছিলেন তিনি। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসছে, তীব্র সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং ব্যক্তিগত জীবনের কিছু জটিলতার জেরেই এই চরম ও বেদনাদায়ক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তরুণী। তবে পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং মৃত্যুর আসল কারণ জানার চেষ্টা করছে।

​‘সুন্দরী’ ও মা-মেয়ের সেই জনপ্রিয় জুটি

​পশুপ্রেমী হিসেবে মলিদেবী এবং সায়নীর এক আলাদা পরিচিতি ছিল নেটপাড়ায়। মা ও মেয়ের বন্ধুত্বপূর্ণ রসায়ন এবং তাঁদের পোষ্যদের খাওয়াদাওয়া ও দুষ্টুমির ভিডিও দেখতে ভালোবাসতেন লাখো মানুষ। অনেকেই তাঁদের ভালোবাসে উপহার পাঠাতেন। সেই সাজানো সুখী ফ্রেমটা যে এভাবে এক লহমায় ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে, তা ভাবতেও পারছেন না নেটিজেনরা। সায়নীর মৃত্যুর পর তাঁর মা মলিদেবী সোশাল মিডিয়ায় এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া না দিলেও, অনুগামীরা সায়নীর আত্মার শান্তি কামনা করে কমেন্ট বক্সে শোক উগরে দিচ্ছেন।

আরো পড়ুন:  মারণরোগ ক্যানসারের সাথে লড়াই শেষ, না ফেরার দেশে অভিনেত্রী প্রবীণা দেশপাণ্ডে; শোকস্তব্ধ বিনোদন জগত

​নৈহাটির বড়মা মন্দিরের সেই সাম্প্রতিক বিতর্ক

​সায়নীর মৃত্যুর খবরের মাঝেই নেটপাড়ার অনেকের মনে পড়ে যাচ্ছে মাত্র কয়েকদিন আগের একটি অপ্রীতিকর ঘটনা। মা-কে সাথে নিয়ে নৈহাটি (Naihati)-র বড়মা মন্দিরে পুজো দিতে গিয়ে তীব্র হেনস্থার শিকার হতে হয়েছিল সায়নীকে। মন্দিরের অব্যবস্থা ও ছবি তোলা নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বচসার জেরে মন্দির চত্বর থেকেই ফেসবুক লাইভ (Facebook Live) করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় নেটিজেনদের একাংশ সায়নীকে ‘ভাইরাল’ হওয়ার জন্য নাটক করার অপবাদ দেয়। যদিও সায়নী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তাঁদের নতুন করে জনপ্রিয় হওয়ার কোনো লোভ নেই। সেই মানসিক আঘাত ও বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এই রহস্যমৃত্যু অনেক প্রশ্ন তুলে দিয়ে গেল।

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ: সমাজ ও বিনোদন জগতে মানসিক অবসাদের থাবা দিন দিন আরও চওড়া হচ্ছে। গত বুধবারই জনপ্রিয় পরিচালক অনীক দত্ত (Anik Datta)-র আত্মহননের নেপথ্যেও মানসিক অবসাদের তত্ত্ব উঠে এসেছিল। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই ফের এক তরুণ প্রতিভার এমন চলে যাওয়া আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আরও একবার গুরুত্ব দিয়ে ভাবার সময় এনে দিয়েছে।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments