back to top
Saturday, May 30, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeরাজ্য ও রাজনীতিAnubrata Mondals Security Downgraded: আরও কমল কেষ্টর নিরাপত্তা! ওয়াই প্লাস আগেই ঘুচেছিল,...

Anubrata Mondals Security Downgraded: আরও কমল কেষ্টর নিরাপত্তা! ওয়াই প্লাস আগেই ঘুচেছিল, এবার অনুব্রতর পাহারায় সরল রাজ্য পুলিশও

একসময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা তিনি। তাঁর এক ডাকে বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খেত বলে রাজনৈতিক মহলে চর্চা ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে পরিস্থিতি। দীর্ঘ আইনি লড়াই ও জেলবন্দি দশা কাটিয়ে নিজের ডেরায় ফিরলেও, সেই পুরনো মেজাজ আর নেই। বর্তমানের এই পরিবর্তিত পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) বা পরিবর্তনের বাংলায় কার্যত নিজের ঘরেই ‘গৃহবন্দি’ হয়ে দিন কাটাচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। আর এরই মাঝে আরও একবার ধাক্কা খেলেন তিনি। এবার তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও একধাপ কমিয়ে দিল প্রশাসন। রাজ্য পুলিশের যে তিন জওয়ান তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে মোতায়েন ছিলেন, তাঁদেরকেও পাকাপাকিভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে।

বীরভূম (Birbhum) জেলার রাজনীতিতে একসময় শেষ কথা বলতেন তিনি। তাঁর অঙ্গুলিহেলনে চলত গোটা জেলার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাজকর্ম। কিন্তু গরু পাচার মামলায় গ্রেফতার হয়ে ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লি (New Delhi) শহরের তিহার জেলে দীর্ঘ সময় কাটানোর পর যখন তিনি নিজের শহর বোলপুর (Bolpur) -এর নিচুপট্টির বাড়িতে ফিরে আসেন, তখন থেকেই তাঁর চারপাশের চিত্রটা একেবারে অন্যরকম। আগের সেই ভিড়, সেই স্লোগান বা নেতা-কর্মীদের উন্মাদনা আজ অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। দলও তাঁকে আগের মতো আর সাংগঠনিক দায়িত্ব দিয়ে সামনে রাখছে না। এই নিঃসঙ্গতার মাঝেই রাজ্য সরকারের এই নতুন পদক্ষেপ তাঁকে আরও বেশি একা করে দিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

নিউজস্কোপ বাংলার পাঠকদের জন্য জানিয়ে রাখি, আগে এই দাপুটে নেতার জন্য বরাদ্দ ছিল ওয়াই প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা। তাঁর কনভয়ে থাকত একাধিক পুলিশের গাড়ি এবং তাঁকে সর্বক্ষণ ঘিরে থাকতেন অত্যাধুনিক অস্ত্রধারী সশস্ত্র রক্ষীরা। রাস্তায় তিনি বেরোলে রীতিমতো যানজট তৈরি হত, সাধারণ মানুষকে পথ ছেড়ে দিতে হত। কিন্তু আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তাঁর সেই ভিআইপি সুরক্ষাবলয়ে কোপ পড়তে শুরু করে। ওয়াই প্লাস নিরাপত্তা আগেই প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল। সেই বড়সড় সুরক্ষা বলয় তুলে নেওয়ার পর, তাঁর জন্য শুধুমাত্র দু’জন সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষীকে সর্বক্ষণের জন্য মোতায়েন রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি, রাজ্য পুলিশের তিনজন জওয়ানও তাঁর পাহারায় নিযুক্ত ছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক প্রশাসনিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, ওই তিন পুলিশ কর্মীকেও সরিয়ে নেওয়া হল। অর্থাৎ, এখন শুধুমাত্র দু’জন রক্ষীই তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে রইলেন।

আরো পড়ুন:  তৃণমূলের জেলা সভাপতির পদ থেকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ইস্তফা: সুব্রত বক্সীকে বিস্ফোরক চিঠি, নিশানায় ভোটকুশলী সংস্থা

রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, কেন এই আচমকা পদক্ষেপ? অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই নেতার প্রাসঙ্গিকতা অনেকটাই কমে গিয়েছে। দলের অন্দরেও নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের উত্থান ঘটেছে এবং তাঁরাই এখন জেলার রাশ ধরেছেন। তাই তাঁর জন্য বিপুল পরিমাণ পুলিশি নিরাপত্তা এবং সরকারি অর্থ বরাদ্দ রাখার আর কোনও যৌক্তিকতা দেখছে না প্রশাসন। অন্যদিকে, এই ঘটনার পর নিচুপট্টির দোতলা বাড়িটিতে নিস্তব্ধতা যেন আরও গাঢ় হয়েছে। একসময় যে বাড়ির সামনে প্রতিদিন ভোর থেকে মাঝরাত পর্যন্ত আক্ষরিক অর্থেই মেলা বসে যেত, আজ সেখানে কেবল গুটিকয়েক মানুষের আনাগোনা। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই অভাবনীয় পরিবর্তন দেখে অবাক।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments