back to top
Wednesday, June 10, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeরাজ্য ও রাজনীতিকেরলের ধাঁচে এবার কলকাতাতেও ‘ওয়াটার মেট্রো’, ডবল ইঞ্জিন সরকারের হাত ধরে জলপথে...

কেরলের ধাঁচে এবার কলকাতাতেও ‘ওয়াটার মেট্রো’, ডবল ইঞ্জিন সরকারের হাত ধরে জলপথে বিপ্লব

কেন্দ্র এবং রাজ্যের দীর্ঘদিনের সংঘাত এখন অতীত। রাজনৈতিক তরজা দূরে সরিয়ে রেখে পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়নে এবার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ শুরু করল নবান্ন (Nabanna)। যার প্রথম বড় পদক্ষেপ হিসেবে তিলোত্তমায় চালু হতে চলেছে অত্যাধুনিক ‘ওয়াটার মেট্রো’ (Water Metro)। কেরল (Kerala) রাজ্যের কোচি (Kochi) শহরের সফল মডেলকে সামনে রেখেই এবার কলকাতার জলপথকে সাজিয়ে তোলার মেগা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার নবান্নে (Nabanna) আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রক (Union Shipping Ministry) এবং জাতীয় জলপথ দফতরের (National Waterways Authority) শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর এই সবুজ সংকেত মিলেছে। এর ফলে দেশের ১৮তম শহর হিসেবে অত্যাধুনিক জলপথ পরিবহণ মানচিত্রে যুক্ত হতে চলেছে কলকাতা (Kolkata)।

​নবান্নে মেগা বৈঠক: একমঞ্চে কেন্দ্র ও রাজ্য

​এদিনের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর (Shantanu Thakur), শিপিং দফতরের শীর্ষ আধিকারিক এবং কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের (Kolkata Port Trust) চেয়ারম্যান। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের পক্ষে মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে শিল্প, পরিবহণ, সেচ, পূর্ত দফতর এবং কলকাতা পুরনিগমের (Kolkata Municipal Corporation) আধিকারিকরা অংশ নেন। মূলত কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ সমন্বয়ে রাজ্যের পরিকাঠামো, জলপথ সংযোগ, পর্যটন এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রূপরেখা তৈরি হয়েছে এই বৈঠকে।

২২,৭০০ কোটির ‘সাগরমালা ২’ প্রকল্প

​মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিগত সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘সাগরমালা’ (Sagarmala Project) নিয়ে যে অনীহা ছিল, তা কাটিয়ে বর্তমান ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদিত ‘সাগরমালা ২’ (Sagarmala 2) প্রকল্পে অত্যন্ত সদর্থকভাবে যুক্ত হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের জন্য প্রায় ২২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার একটি বিশাল বাজেট পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।

​এই মেগা প্রজেক্টের আওতায় পোর্ট কানেক্টিভিটি (Port Connectivity), কোস্টাল শিপিং (Coastal Shipping) এবং সমুদ্র ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলগুলির আমূল পরিবর্তন করা হবে। বিশেষ করে সাগর (Sagar), কাকদ্বীপ (Kakdwip), নামখানা (Namkhana) থেকে শুরু করে বকখালি (Bakkhali), ফ্রেজারগঞ্জ (Fraserganj) হয়ে ওড়িশা (Odisha) সীমান্ত সংলগ্ন উদয়পুর (Udaipur) পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের জন্য বিশ্বমানের পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি সুন্দরবনের সন্দেশখালি (Sandeshkhali), হিঙ্গলগঞ্জ (Hingalganj), গোসাবা (Gosaba) এবং ঝড়খালির (Jharkhali) মতো প্রত্যন্ত উপকূলীয় দ্বীপগুলির যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

আরো পড়ুন:  নারী পুলিশ কর্মীদের সুবিধার্থে বদলি নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর

নদীগর্ভে টানেল ও নতুন জেটি

​কলকাতার জলপথ পরিবহণকে আরও গতিশীল করতে হুগলি (Hooghly) নদীর তলা দিয়ে একটি আন্ডারগ্রাউন্ড টানেল (Underground Tunnel) তৈরির প্রস্তাব ছিল। সেই প্রস্তাবে কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট এবং শিপিং দফতর অবশেষে অনাপত্তিপত্র বা NOC দিতে রাজি হয়েছে, যা যাতায়াতের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। এছাড়া, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ৪৪টি নতুন আধুনিক জেটি নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু হচ্ছে, যার মধ্যে ৪১টির ছাড়পত্র ইতিমধ্যেই শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পোর্ট ট্রাস্ট (Syama Prasad Mookerjee Port Trust) দিয়ে দিয়েছে। হুগলির বলাগড়ে (Balagarh) বন্দর সংযোগকারী রাস্তা এবং ফ্লাইওভার তৈরির কাজও দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে।

পুজোয় গঙ্গার ঘাটগুলির ভোলবদল

​বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর (Durga Puja) আগেই কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ঘাটগুলির সৌন্দর্যায়নের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ‘বিকাশ আর বিরাসত’ (Development and Heritage) নীতিকে সামনে রেখে কলকাতার বাগবাজার, আহিরীটোলা, শোভাবাজার, মল্লিক ঘাট, বাবু ঘাট এবং হাওড়ার (Howrah) রামকৃষ্ণপুর ও বান্দা ঘাটের ভোলবদল করা হবে। রামকৃষ্ণদেব, সারদা দেবী এবং স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতিবিজড়িত এই ঘাটগুলির আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে এনে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে গঙ্গাসাগর মেলাকে (Gangasagar Mela) বিশ্বমঞ্চে নিয়ে যেতে কপিল মুনির আশ্রম সংলগ্ন সমুদ্র সৈকত পুনরুদ্ধারে কেন্দ্র সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে।

বন্দর এলাকায় সিন্ডিকেট রাজ ও চোরাচালান রুখতে কড়া পদক্ষেপ

​উন্নয়নের পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো আপস করতে রাজি নয় প্রশাসন। পোর্ট এলাকার ভেতরে মাদক পাচার, চোরাচালান এবং সিন্ডিকেট রাজ (Syndicate Raj) কঠোর হাতে দমন করতে এখন থেকে প্রতি মাসে কলকাতা পুরনিগম, পোর্ট ট্রাস্ট, কাস্টমস (Customs), CISF এবং কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থার সাথে যৌথ সমন্বয় বৈঠক করবেন। পুরো কাজটিকে নিখুঁতভাবে পরিচালনা করতে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে একজন নোডাল অফিসার (Nodal Officer) বা প্রজেক্ট ডিরেক্টর নিয়োগ করা হচ্ছে, যিনি আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রতিটি প্রকল্পের কাজ খতিয়ে দেখে দৃশ্যমান ফলাফল মানুষের সামনে নিয়ে আসবেন।

আরো পড়ুন:  আরজি কর কাণ্ড: চিকিৎসক অভীক দের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ, বড় বিপাকে অভিযুক্ত চিকিৎসক

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments