পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ডামাডোলের আবহে এবার ঘটে গেল এক বেনজির এবং চরম নাটকীয় ঘটনা। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বাসভবন সংলগ্ন কালীঘাটের (Kalighat) তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) কেন্দ্রীয় কার্যালয় তথা নতুন ‘তৃণমূল ভবন’-এ হানা দিল রাজ্য পুলিশের অপরাধ দমন শাখা সিআইডি (CID)-র একটি উচ্চপর্যায়ের দল। মঙ্গলবার বিকেলে সিআইডি-র এই আকস্মিক অভিযানে গোটা রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন পড়ে গিয়েছে।
সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। বিশেষ করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) সিআইডি-র একের পর এক সমন এবং তাঁর হাজিরা এড়ানোর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই খোদ দলীয় কার্যালয়ে গোয়েন্দাদের এই প্রবেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
তিন ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার তল্লাশি ও সিসিটিভি ফুটেজ বাজেয়াপ্ত
বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ সিআইডি-র একটি বিশেষ দল কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে অবস্থিত ওই দলীয় কার্যালয়ে এসে পৌঁছয়। সঙ্গে ছিলেন কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও। দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকেই তাঁরা মূল ফটক বন্ধ করে দেন এবং ভেতরের কর্মচারীদের মোবাইল ফোন সাময়িকভাবে জমা নিয়ে নেন।
গোয়েন্দা সূত্রের খবর, গত কয়েক মাসে এই ভবনে কারা যাতায়াত করেছেন এবং কাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতেই এই হানা। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই ম্যারাথন তল্লাশিতে ভবনের একাধিক ঘরের ফাইলপত্র পরীক্ষার পাশাপাশি তৃণমূল ভবনের সেন্ট্রাল সার্ভার থেকে গত কয়েক সপ্তাহের সমস্ত সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ এবং ডিজিটাল হার্ডডিস্ক বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারীরা।
”আইন সবার জন্য সমান”: প্রতিক্রিয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
খোদ তৃণমূলের সদর দফতরে সিআইডি-র এই অভিযানের খবর চিল্কের মতো ছড়িয়ে পড়তেই নবান্নে (Nabanna) সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রাজ্য সরকারের অনড় মনোভাব স্পষ্ট করে তিনি সাফ জানান, “আইন নিজের পথেই চলবে। অপরাধী বা দুর্নীতির উৎস যেখানেই থাক না কেন, প্রশাসন সেখানে পৌঁছবেই। আইন ও তদন্ত প্রক্রিয়ার ঊর্ধ্বে কেউ নন, তা সে কোনো দলীয় কার্যালয়ই হোক না কেন। রাজ্য সরকার তদন্ত সংস্থাকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করার স্বাধীনতা দিয়েছে।”
রাজনৈতিক মহলে তুমুল তরজা
কালীঘাটের মতো হাই-সিকিউরিটি জোনে এবং জোড়াফুল শিবিরের মূল স্নায়ুকেন্দ্রে এই ধরনের পুলিশি অভিযান অতীতে কখনো দেখা যায়নি। তৃণমূলের স্থানীয় এক শীর্ষ নেতার দাবি, “এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ। দলকে কালিমালিপ্ত করতেই পুলিশকে এভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।”
অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিককালে একের পর এক তৃণমূল নেতার গ্রেফতারি এবং অভিষেকের বিরুদ্ধে সিআইডি তদন্তের যে গতিপ্রকৃতি, তারই ধারাবাহিকতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর দক্ষিণ কলকাতার পাশাপাশি গোটা রাজ্য জুড়েই রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে তুঙ্গে উঠেছে। সিআইডি এই হানা থেকে ঠিক কী কী তথ্য প্রমাণ উদ্ধার করল, এখন সেদিকেই নজর সবার।


Recent Comments