আগামী ২১ জুন ২০২৬, রবিবার পালিত হতে চলেছে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা (Kolkata) সেজে উঠেছে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজনে। যোগ দিবস উপলক্ষ্যে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে রেড রোডে (Red Road)। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে শহরতলি এবং রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ কলকাতায় আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে সাধারণ যাত্রী ও যোগ দিবসের অংশগ্রহণকারীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বড় পদক্ষেপ নিল জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেট (Joint Council of Bus Syndicates)।
বাস পরিষেবায় বিশেষ গুরুত্ব
জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের সভাপতি তপন ব্যানার্জি (Tapan Banerjee) শুক্রবার সংগঠনের সদস্যদের উদ্দেশ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যোগ দিবসের দিন যেন শহর এবং শহরতলীর পরিবহন ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি না থাকে। তপন বাবু জানিয়েছেন, যেহেতু এদিন দূরদূরান্ত থেকে মানুষ শহরে আসবেন, তাই বাসের সংখ্যা ও পরিষেবা অন্য সাধারণ দিনের তুলনায় আরও ভালো রাখতে হবে।
তপন ব্যানার্জি বলেন, “আগামী ২১ জুন বিশ্ব যোগ দিবস। কলকাতা এবং আশেপাশের জেলা থেকে অসংখ্য মানুষ এদিন যোগাভ্যাসে অংশ নিতে আসবেন। আমাদের দায়িত্ব সাধারণ মানুষের অসুবিধার কথা মাথায় রেখে বাসের পরিষেবা ঠিক রাখা। আমি সমস্ত রুটের বাস মালিক ও কর্মীদের অনুরোধ করছি, সকাল থেকেই যাতে পর্যাপ্ত সংখ্যক বাস রাস্তায় নামে এবং পরিষেবার মান বজায় থাকে সেদিকে নজর রাখতে।”
পরিবহন ব্যবস্থা ও ট্রাফিক সতর্কতা
উল্লেখ্য যে, যোগ দিবস উপলক্ষ্যে রেড রোড এবং সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘ যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে থাকবে। পুলিশের পক্ষ থেকে এসপ্ল্যানেড (Esplanade), ময়দান (Maidan), হেস্টিংস (Hastings) এবং বিবাদী বাগ (B.B.D. Bagh) চত্বরে বিকল্প রুটে যান চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাসের রুটে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে, তবে তা যেন যাত্রীদের ভোগান্তির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেও বাস সিন্ডিকেট বিশেষ নজর রাখছে।
যাত্রীদের জন্য বার্তা
রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে হাজার হাজার মানুষের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ট্রাফিক জট বা বাসের ভিড় এড়াতে যাত্রীদের হাতে কিছুটা সময় নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পরিবহন মহল। জয়েন্ট কাউন্সিলের দাবি, যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখতে সব রকম প্রশাসনিক সহযোগিতা করা হবে।
একদিকে যোগ দিবসের উৎসবের আবহে কলকাতার রাজপথ যখন সেজে উঠেছে, অন্যদিকে পরিবহন কর্মীদের এই তৎপরতা সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতকে অনেকখানি সহজ করে তুলবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বাস সিন্ডিকেটের এই সক্রিয়তা শহরবাসীকে এক স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে যে, বড় কোনো সরকারি অনুষ্ঠান থাকলেও গণপরিবহন ব্যবস্থায় ছেদ পড়বে না।
সব মিলিয়ে ২১ জুন, রবিবার কলকাতার রাস্তায় বাস পরিষেবার বিশেষ নজরদারি এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে দায়বদ্ধতার পরিচয় দিলেন তপন ব্যানার্জি ও তাঁর সংগঠন। আশা করা হচ্ছে, বাস মালিকরা এই নির্দেশ মেনে চললে যোগ দিবসে আগত সাধারণ মানুষের যাত্রা কোনো প্রকার বিড়ম্বনা ছাড়াই সম্পন্ন হবে।


Recent Comments