জামাই ষষ্ঠী মানেই বাঙালি পরিবারের এক বিশেষ উৎসব। জামাইকে আদর-আপ্যায়ন করে খাওয়ানো, নতুন পোশাক দেওয়া, নানা ফল-মিষ্টি দিয়ে বরণ করে নেওয়ার এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে প্রতি বছরই উৎসবের আবহ তৈরি হয়। তবে এবারের জামাই ষষ্ঠীতে সেই আনন্দের মাঝেই মালদার ফলের বাজারে দেখা গেল মূল্যবৃদ্ধির চড়া ছবি। ফলের দাম শুনে অনেকেরই চোখ কপালে উঠেছে। কোথাও কোথাও একটি লিচুই বিক্রি হয়েছে ২০ টাকা দরে।
শুধু লিচু নয়, আম, আপেল, কলা, নাশপাতি-সহ প্রায় সমস্ত ফলের দামই ছিল সাধারণ দিনের তুলনায় অনেক বেশি। পাশাপাশি পুজোর উপকরণ, ফুল, ধূপ, প্রদীপ, মিষ্টি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দামও ছিল ঊর্ধ্বমুখী। ফলে বাজার করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের পকেটে পড়েছে বাড়তি চাপ। অনেকেই জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে গিয়ে বাজেটের বাইরে খরচ করতে হয়েছে।
তবে দাম যতই বাড়ুক না কেন, জামাই ষষ্ঠীর আবেগে ভাটা পড়েনি। কারণ বাঙালির কাছে এই দিনটি শুধুমাত্র একটি উৎসব নয়, পারিবারিক সম্পর্কের বন্ধনকে আরও মজবুত করার এক বিশেষ উপলক্ষ। তাই সাধ্যের মধ্যে থেকেই জামাইয়ের জন্য সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন শ্বশুর-শাশুড়িরা। কেউ ফলের পরিমাণ কমিয়েছেন, কেউ আবার কেনাকাটার তালিকায় কাটছাঁট করেছেন, কিন্তু উৎসবের আনন্দে কোনও খামতি রাখেননি।
এদিন সকাল থেকেই মালদার বিভিন্ন ফলের বাজারে ছিল উপচে পড়া ভিড়। ক্রেতাদের ভিড়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন বিক্রেতারাও। বিকেল গড়াতেই ভিড় বাড়ে শহর ও জেলার বিভিন্ন নামী মিষ্টির দোকানেও। জামাইয়ের মুখ মিষ্টি করাতে রসগোল্লা, রাজভোগ, সন্দেশ, চমচম, ল্যাংচা-সহ নানা ধরনের মিষ্টি কিনতে ভিড় জমিয়েছিলেন শ্বশুর-শাশুড়িরা।
ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, উৎসব উপলক্ষে চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়াতেই ফল ও মিষ্টির বাজারে দামের এই ঊর্ধ্বগতি। অন্যদিকে ক্রেতাদের বক্তব্য, দাম বেশি হলেও বছরের এই বিশেষ দিনে জামাইকে খুশি করতে কোনও কার্পণ্য করতে চান না তাঁরা।
সব মিলিয়ে, অগ্নিমূল্যের বাজারের চাপ থাকলেও মালদা জুড়ে জামাই ষষ্ঠীর উৎসব ছিল রঙিন, প্রাণবন্ত এবং পারিবারিক উষ্ণতায় ভরপুর। দাম বাড়ার আক্ষেপ থাকলেও, প্রিয় জামাইয়ের মুখে হাসি ফোটানোর আনন্দই এদিন ছিল সকলের কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।


Recent Comments