পশ্চিমবঙ্গ দিবসের পুণ্যলগ্নে কলকাতার বুকে এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (KMC)। পার্ক সার্কাস ও মল্লিকবাজার সংযোগকারী অন্যতম ব্যস্ত রাস্তা ‘সোহরাওয়ার্দী এভিনিউ’-এর (Suhrawardy Avenue) নাম পরিবর্তন করে রাখা হলো ‘গোপাল মুখার্জী রোড’ (Gopal Mukherjee Road)। মহানগরের রাজপথের এই নাম বদলকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে এক নতুন বিতর্ক ও দীর্ঘদিনের ইতিহাস সংশোধনের চর্চা শুরু হয়েছে।
একটি নাম বদল এবং ইতিহাসের পাঠোদ্ধার
বহু বছর ধরে কলকাতার অন্যতম প্রধান এই রাস্তার নাম জড়িয়ে ছিল অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী-এর সঙ্গে। ১৯৪৬ সালের আগস্ট মাসে কলকাতার বুকে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ দাঙ্গা তথা ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে’ (Direct Action Day)-র রক্তাক্ত ইতিহাসের নেপথ্যে সোহরাওয়ার্দীর ভূমিকা নিয়ে বরাবরই তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভ রয়েছে ইতিহাসবিদ এবং সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে।
অন্যদিকে, সেই চরম সংকটের দিনে কলকাতার বহু মানুষের প্রাণ বাঁচানো এবং প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে উঠে এসেছিলেন তৎকালীন উত্তর কলকাতার বাসিন্দা গোপালচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, যিনি আপামর মানুষের কাছে ‘গোপাল পাঁঠা’ বা ‘বীর গোপাল মুখার্জী’ নামে সমধিক পরিচিত।
নাগরিক মহলে সাধুবাদ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া
পশ্চিমবঙ্গ দিবসের শুভক্ষণে পুরসভার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে নেটিজেন এবং শহরবাসীর একাংশ একে “ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন” হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে:
- নায়কদের যথাযোগ্য সম্মান: দীর্ঘদিন ধরে কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে বিভাজন ও রক্তক্ষয়ের ইতিহাসের নাম বহন করার যে ভুল চলছিল, আজ সাহস, আত্মত্যাগ ও রক্ষকের প্রতীক শ্রী গোপাল মুখার্জীকে সম্মান জানিয়ে তার অবসান ঘটল।
- ভুল সংশোধন: এখন সময় এসেছে পশ্চিমবঙ্গের প্রকৃত বীর ও নায়কদের স্মরণ করার এবং তাঁদের অবদানকে আগামী প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার।
তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলের একটি অংশের মধ্যে ভিন্ন সুরও শোনা যাচ্ছে। তাঁদের একাংশের দাবি, হুট করে দীর্ঘদিনের চেনা রাস্তার নাম পরিবর্তন না করে ইতিহাসের অন্যান্য দিকগুলিকেও খতিয়ে দেখা উচিত ছিল। সব মিলিয়ে, নাম বদলের এই ফলক উন্মোচনের পর থেকেই পার্ক সার্কাস সংলগ্ন ওই রাস্তায় এখন নতুন করে চর্চার ঢল নেমেছে।ইতিহাস সংশোধন!


Recent Comments