পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় দাঁড়িয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) উদ্দেশ্য করে একহাত নিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নাম না করেই একের পর এক তোপ দেগে তিনি কার্যত বুঝিয়ে দিলেন, রাজনীতির ময়দানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময় শেষ।
‘চ্যাপ্টার ক্লোজড’— তোপ শুভেন্দুর
এদিন বিধানসভার অন্দরে শুভেন্দু অধিকারী বেশ কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি বলেন, “সব ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে।” এর পাশাপাশি তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “রোজ মিছিল করুন। কিন্তু ফিরতে পারবেন না। ওই চ্যাপ্টার ক্লোজড।” রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে শুভেন্দুর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলেছে।
শুভেন্দু আরও বলেন, “আমি ২০১১ সালে আপনাদের আনতে রাস্তায় ছিলাম, আর ২০২৬ সালে আপনাদের সরাতেও রাস্তায় ছিলাম। যারা কমিউনিস্টদের (Communist) সরিয়ে লড়াই করছিল, তারা চলে গেল। দল কাদের হাতে গেল? লাল চুল, কানে দুল তারাই হল যুব তৃণমুল “
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান
বিরোধী দলনেতা এদিন কেবল আক্রমণই করেননি, বরং দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তাও দিয়েছেন। বিধানসভার বক্তৃতায় শুভেন্দু বলেন, “এই সেশনে বিল আসছে। সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করব। সম্পত্তি অকশন (Auction) করব। হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের (Harish Chatterjee Street) প্রাসাদে যারা কলকাতায় ব্রিজের নিচে থাকে তাদের রাখাবো। এই সেশনের শেষ দিনে বিল এনে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে শুভেন্দুর আক্রমণের ঝাঁঝ ছিল তুঙ্গে। তিনি বলেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আপনাদের কথা ভাবেন না। উনি ভাবেন ওনার দাদার বাড়ি ভাঙা হয়েছে কিনা, ভাইপো জেলে যাওয়া কীভাবে আটকানো যায়। নন্দীগ্রামেও (Nandigram) হেরেছেন, ভবানীপুরেও (Bhawanipur) হেরেছেন। যিনি নিজের বুথে হারেন, তাকে জননেত্রী মানতে হবে? আমাকে এখান থেকে বলেছিলেন পুরসভায় জিততে পারেন না। আর আজ দেখুন আপনি বাড়িতে বসে আমার বক্তৃতা শুনছেন।”
ভদ্রলোক রাজনীতিক
তবে এদিন শুভেন্দু শুধু আক্রমণই করেননি, বরং পুরনো তৃণমূল (Trinamool) নেতাদের মধ্যে যারা রাজনীতির শিষ্টাচার বজায় রাখেন, তাদের প্রতি সৌজন্যও দেখিয়েছেন। তিনি বলেন, “শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, সমর মুখার্জি এরা রাজনীতিতে ভদ্রলোক। এদের উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাই। “
এদিন বিরোধী দলনেতার বক্তব্য ছিল মূলত রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিজেপির (BJP) কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তাঁর এই মন্তব্য যে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।


Recent Comments