তারাতলার নির্মীয়মাণ গোডাউন ধসের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর অনুমান, নির্মাণ ব্যয় কমানোর লক্ষ্যেই গোডাউন তৈরিতে নিম্নমানের লোহার রড ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল। আর সেই গাফিলতিই ভয়াবহ দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে মনে করা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের দাবি, তিনতলা গোডাউন নির্মাণের জন্য লোহার রড বাবদ যে অর্থ বরাদ্দ ছিল, তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। ফলে খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে বলে সন্দেহ জোরদার হয়েছে। সেই কারণেই নির্মাণের স্থায়িত্ব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শেষ পর্যন্ত গোটা কাঠামো ধসে পড়ে।
এদিকে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চললেও এখনও ঠিক কতজন শ্রমিক সেখানে কাজ করছিলেন, তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না পুলিশ। কারণ শ্রমিকদের উপস্থিতির কোনও নির্ভরযোগ্য নথি বা রেজিস্টার উদ্ধার হয়নি। ফলে এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই নির্মাণ সংস্থার মালিক, সুপারভাইজার, ফ্যাব্রিকেটর, শ্রমিক সরবরাহকারী এবং পরিকল্পনা অনুমোদনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুন, খুনের চেষ্টা-সহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। আদালত ধৃতদের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
তদন্তকারীরা এখন গোডাউনের অনুমোদিত নকশা, জমির লিজ সংক্রান্ত নথি এবং নির্মাণের প্রতিটি ধাপ খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি অভিযুক্ত সংস্থার পূর্বের কাজের অভিজ্ঞতা ও তাদের বিরুদ্ধে থাকা পুরনো মামলাগুলিও যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশের মতে, এই বিপর্যয়ের নেপথ্যে শুধু অবহেলা নয়, পরিকল্পিতভাবে নিয়ম লঙ্ঘন ও খরচ বাঁচানোর প্রবণতা ছিল কি না, সেটিও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তারাতলার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ফের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে নির্মাণ প্রকল্পে নিরাপত্তা বিধি মানা এবং সরকারি নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে তদন্তকারী সংস্থা।


Recent Comments