পরীক্ষার দিন ভোরবেলায় কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের তিন পরীক্ষার্থী। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই তাঁদের সামনে নেমে আসে বড়সড় বিপদ। চলন্ত অবস্থাতেই আচমকা আগুন ধরে যায় তাঁদের যাত্রীবাহী গাড়িতে। চালকের তৎপরতায় দ্রুত সকলকে নিরাপদে নামিয়ে দেওয়ায় অল্পের জন্য এড়ানো যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার ভোর সাড়ে ৪টা নাগাদ পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা পিডব্লিউডি অফিস সংলগ্ন এলাকায়। জানা গিয়েছে, মেদিনীপুর থেকে একটি চার চাকার প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করে তিন পরীক্ষার্থী কলকাতার সল্টলেকে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিলেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছনোর উদ্দেশ্যে ভোরেই যাত্রা শুরু করেছিলেন তাঁরা।
তেমাথানি–ডেবরা রাজ্য সড়ক ধরে গাড়িটি এগোচ্ছিল। সেই সময় ডেবরা পিডব্লিউডি অফিসের সামনে পৌঁছতেই চালকের নজরে আসে গাড়ির ইঞ্জিন থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তিনি গাড়িটি রাস্তার ধারে থামিয়ে পরীক্ষার্থী এবং নিজেও দ্রুত নেমে যান। চালকের এই উপস্থিত বুদ্ধির ফলেই বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
গাড়ি থেকে সবাই নেমে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন দ্রুত পুরো গাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে দাউ দাউ করে জ্বলতে শুরু করে চার চাকার গাড়িটি। ভোরের নির্জন রাস্তায় আগুনের লেলিহান শিখা দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন। তাঁরা প্রথমে জল দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে অল্প সময়ের মধ্যেই গাড়িটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ডেবরা থানার পুলিশ। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকা ঘিরে ফেলে এবং তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, গাড়ির ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি বা শর্ট সার্কিটের জেরেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
এই ঘটনায় কোনও প্রাণহানি বা আহতের খবর নেই। তবে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে এমন ভয়াবহ ঘটনার মুখোমুখি হয়ে পরীক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, চালক যদি সময়মতো গাড়ি থামিয়ে সবাইকে নামিয়ে না দিতেন, তাহলে এই ঘটনা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারত। চালকের তৎপরতা ও উপস্থিত বুদ্ধির কারণেই এদিন নিশ্চিতভাবে একটি বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।


Recent Comments