পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ক্যালেন্ডারে ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস এক বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। প্রতি বছর এই দিনটিকে কেন্দ্র করে ধর্মতলায় (Dharmatala) তৃণমূল কংগ্রেসের প্রস্তুতি তুঙ্গে থাকে। তবে ২০২৬ সালের ২১ জুলাইয়ের আগে কালীঘাট (Kalighat) তৃণমূলের অন্দরমহলে এক নতুন সমীকরণ লক্ষ্য করা গেল। বিগত কয়েক বছর ধরে যে ডেকরেটর সংস্থা দলের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান সামলে আসছিল, তাদের বাদ দিয়েই এবার মঞ্চ প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছে।
রাজ্যের শাসকদলের অন্দরে বর্তমানে কিছুটা অস্থির পরিস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আসন্ন একুশে জুলাই কীভাবে পালিত হবে, তা নিয়ে নানাবিধ জল্পনা চলছে। শোনা যাচ্ছে, ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে শহিদ দিবস পালন করার অনুমতি চেয়ে কলকাতা (Kolkata) পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছে তৃণমূলের দুটি গোষ্ঠীই—একদিকে কালীঘাট নেতৃত্ব এবং অন্যদিকে ‘আসল’ তৃণমূল হিসেবে পরিচিত পক্ষ। শেষ পর্যন্ত কার আবেদন মঞ্জুর হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যবাসী।
তবে এই প্রশাসনিক জটিলতার মধ্যেই কালীঘাট তৃণমূলের প্রস্তুতিতে এক বড়সড় চমক দেখা গেছে। এতদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) দলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ডেকোরেশনের দায়িত্বে ছিল মন্টু সাহার মালিকানাধীন মডার্ন ডেকরেটর্স। গত দুই বছর ধরে মঞ্চ তৈরি থেকে শুরু করে মাইক—সমস্ত কিছুর দেখভাল করতেন মন্টু সাহা ও তাঁর কর্মীরা। কিন্তু এবারের চিত্রটা একদমই আলাদা।
রবিবার ধর্মতলার সভাস্থলে গিয়ে দেখা গেল, মঞ্চ বাঁধার জায়গা মাপজোক করছেন অন্য এক সংস্থার কর্মীরা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ, দোলা সেন এবং বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের মতো নেতৃত্ব। তবে পুরনো ডেকরেটর সংস্থাকে কেন এবার ব্রাত্য রাখা হলো, তা নিয়ে অবশ্য মুখে কুলুপ এঁটেছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন মডার্ন ডেকরেটর্স-এর মালিক মন্টু সাহা। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ তৈরির বিষয়ে কালীঘাটের পক্ষ থেকে তাঁর কাছে কোনো নির্দেশ বা খবর পাঠানো হয়নি। তিনি বলেন, “আমরা এবার ওই মঞ্চের কাজ করছি না।” উল্লেখ্য, বিগত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব পালন করার পর হঠাৎ এই পরিবর্তন রাজনীতির অন্দরে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ২০২৪ সালে লোকভবনের সামনে একটি ধরনা মঞ্চের কাজের সময় বৃষ্টির জল পড়ার মতো কিছু যান্ত্রিক বিভ্রাট দেখা দিয়েছিল। তারপর থেকেই সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওপর দলের আস্থা কিছুটা তলানিতে ঠেকেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার পুরোপুরি নতুন ডেকরেটর সংস্থাকে দায়িত্ব দিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না কালীঘাট, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
সাধারণত জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রার পরবর্তী সময় থেকেই শুরু হয়ে যায় একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ তৈরির খুঁটি পুজো। কিন্তু এবছর পুলিশের কাছ থেকে চূড়ান্ত অনুমতি না মেলায় খুঁটি পুজো নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। অনুমতি পাওয়ার ওপর নির্ভর করছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি। সব মিলিয়ে, পরিবর্তিত ডেকরেটর এবং নতুন এই রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যে দিয়ে এবার একুশে জুলাই পালনে তৃণমূল কতটা সফল হয়, তা দেখার জন্য এখন অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।


Recent Comments