সোমবার সকালে কলকাতার সরকার পোষিত যোধপুর পার্ক বয়েজ স্কুলের সামনে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রাইভেট টিউশন নেওয়ার জন্য পড়ুয়াদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে—এই অভিযোগ তুলে স্কুলের সামনে বিক্ষোভে সামিল হন একাংশ অভিভাবক। অভিযোগের তির মূলত একজন নির্দিষ্ট শিক্ষকের দিকে। পাশাপাশি মর্নিং সেকশনের টিচার-ইন-চার্জের বিরুদ্ধেও একাধিক অনিয়ম, দুর্ব্যবহার এবং প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ সামনে এসেছে।
বিক্ষোভ চলাকালীন স্কুলের গেটের সামনে ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনার ঘটনাও ঘটে। অভিযোগ, এক শিক্ষককে ঘিরে কিছু অভিভাবক অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। যদিও উপস্থিত অন্য অভিভাবকদের একাংশ ওই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
শুধু অভিভাবকরাই নন, মর্নিং সেকশনের একাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকাও টিচার-ইন-চার্জের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে মানসিক হেনস্থা করা হচ্ছে এবং কোনও আলোচনাই না করে একতরফাভাবে নানা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এই সংক্রান্ত মোট ১৮ দফা অভিযোগ সাব-ইন্সপেক্টর অব স্কুলের কাছে জমা পড়েছে। পাশাপাশি অভিযোগপত্র পাঠানো হয়েছে জেলা স্কুল পরিদর্শকের অফিসেও।
শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অভিযোগ, ক্লাসের রুটিন ও দায়িত্ব বণ্টনে স্বচ্ছতা নেই। অনেক সময় একাধিক সেকশন একত্রিত করে একজন শিক্ষককে ৮০ থেকে ৮৫ জন প্রাথমিক শ্রেণির পড়ুয়াকে একসঙ্গে পড়াতে বাধ্য করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট ও স্থায়ী ক্লাস রুটিন না থাকায় পড়ুয়াদের প্রতিদিন সব বিষয়ের বই নিয়ে স্কুলে আসতে হচ্ছে, যার ফলে অযথা ভোগান্তির মুখে পড়ছে ছাত্রছাত্রীরা।
এছাড়াও আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য কোনও লিখিত নির্দেশিকা দেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র মৌখিকভাবে জানানো হয়েছিল। দিনটি রবিবার হওয়ায় অনেক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না। পরে তাঁদের ক্যাজুয়াল লিভ কেটে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে শিক্ষক মহলে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
একদিকে অভিভাবকদের প্রাইভেট টিউশন সংক্রান্ত অভিযোগ, অন্যদিকে শিক্ষকদের প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ—সব মিলিয়ে যোধপুর পার্ক বয়েজ স্কুলে পরিস্থিতি বর্তমানে যথেষ্ট উত্তপ্ত। অভিযোগগুলির তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা।


Recent Comments