বাংলায় নতুন শিল্প ও বিনিয়োগের পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করতে একের পর এক বড় প্রকল্পের কাজ শুরু হতে চলেছে। তারই অংশ হিসেবে হাওড়ার সাঁকরাইল ফুড পার্কে দেশের অন্যতম বৃহৎ দুগ্ধ সংস্থা আমুল বিশ্বের সবচেয়ে বড় দই উৎপাদনকারী কারখানা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী ১৮ জুলাই এই প্রকল্পের শিলান্যাস হওয়ার কথা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন।
পূর্ব ভারতের বাজারকে কেন্দ্র করে ব্যবসার বিস্তার ঘটাতেই এই অত্যাধুনিক দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে। সাঁকরাইলের অবস্থান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় সড়ক, রেলপথ এবং কলকাতা বন্দরের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ থাকায় পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, বিহার এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সহজেই পণ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
প্রস্তাবিত এই কারখানায় প্রতিদিন প্রায় ১৫ লক্ষ লিটার দুধ প্রক্রিয়াকরণ করা যাবে। সংস্থার দাবি, এখানেই প্রতিদিন প্রায় ১০ লক্ষ কেজি দই উৎপাদনের সক্ষমতা থাকবে, যা একে বিশ্বের বৃহত্তম দই উৎপাদনকারী প্ল্যান্টে পরিণত করবে। শুধু দই নয়, মিষ্টি দই, লস্যি, পনির, মাখন, ঘি এবং আইসক্রিম-সহ বিভিন্ন ধরনের দুগ্ধজাত পণ্যও এই কারখানায় তৈরি হবে।
এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকার বহু মানুষের জন্য সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি পরিবহণ, প্যাকেজিং, কাঁচামাল সরবরাহ এবং অন্যান্য পরিষেবা ক্ষেত্রেও পরোক্ষভাবে বিপুল কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শুধু আমুল নয়, জুলাই মাসেই রাজ্যে আরও কয়েকটি বড় শিল্প প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। হুগলির ডানকুনিতে লাক্স ইন্ডাস্ট্রিজ প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে নতুন হোসিয়ারি কারখানা গড়ছে। এছাড়া জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে বাঁকুড়ার মেজিয়ায় শ্যাম স্টিল-এর প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ইস্পাত কারখানার শিলান্যাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজ্য সরকারের আশা, এই ধারাবাহিক শিল্প বিনিয়োগ পশ্চিমবঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াবে এবং শিল্পোন্নয়নের মাধ্যমে রাজ্যের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।


Recent Comments