নিজস্ব সংবাদদাতা: বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার যত জোরদার হচ্ছে, ততই তার প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে। দিনভর প্রচারের পর রাতে দলীয় কর্মীদের জন্য ভুরিভোজ—মাংস-ভাতের এমন আয়োজন এখন প্রায় সব রাজনৈতিক দলেরই নিত্যদিনের ছবি। আর সেই ‘ভোট-পিকনিক’-এর জেরেই হু হু করে বাড়ছে মুরগির মাংসের দাম।
শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গাতেই প্রচারের ফাঁকে চলছে খাওয়া-দাওয়া। কখনও আমবাগানে, কখনও দিঘির পাড়ে বা কোনও নেতার বাড়ির ছাদে বসছে ভোজের আসর। কর্মীদের ক্লান্তি দূর করতে এই আয়োজন হলেও, তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারে।
মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে মালদহে দেশি মুরগির দাম কেজি প্রতি ৪৫০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৫০ টাকায়। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগির দামও ১২০ টাকা থেকে একলাফে বেড়ে হয়েছে প্রায় ২৬০ টাকা কেজি। অর্থাৎ, অনেক ক্ষেত্রেই দাম প্রায় দ্বিগুণ।
মাংস বিক্রেতাদের মতে, ভোটের মরশুমেই এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। পাড়ায় পাড়ায় রাজনৈতিক দলের প্রচার এবং তার সঙ্গে জুড়ে থাকা ভোজের কারণে হঠাৎ করেই চাহিদা বেড়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে আগাম বায়না দিয়ে মুরগি কিনে নিচ্ছেন দলীয় কর্মীরা, ফলে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বাজারে যোগান কমে যাচ্ছে।
মালদহ শহরের পাইকারি বাজারেও দেখা দিয়েছে ঘাটতি। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, গ্রাম থেকে দেশি মুরগি শহরে আসা কমে গেছে, কারণ গ্রামের মানুষই সেগুলি আগে থেকে কিনে নিচ্ছেন। এমনকি পোলট্রি মুরগির ক্ষেত্রেও একই চিত্র।
এর জেরে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। যাঁরা নিয়মিত সপ্তাহে এক-দু’দিন মাংস কিনতেন, তাঁরাও এখন দাম শুনে পিছিয়ে যাচ্ছেন। অনেকের পাতে মাংসের বদলে জায়গা নিচ্ছে ডিম-ভাত।
শহরের বাসিন্দা সোমনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, “ভোটের সঙ্গে মাংসের দামের কী সম্পর্ক, সেটাই বুঝতে পারছি না। তবে প্রভাবটা যে সরাসরি আমাদের পকেটে পড়ছে, সেটা স্পষ্ট।”
সব মিলিয়ে, ভোটের আবহে রাজনৈতিক ভোজ যত জমজমাট হচ্ছে, ততই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে মুরগির মাংস। ভোট শেষ হলে দাম স্বাভাবিক হবে কি না, এখন সেটাই দেখার।

Recent Comments