নিজস্ব সংবাদদাতা: বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনেই মালদহের রাজনৈতিক ময়দানে দেখা গেল এক ভিন্ন মাত্রার উচ্ছ্বাস। সুজাপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিনের সমর্থনে প্রচারে নেমে কার্যত জনজোয়ার তুললেন বহরমপুরের সাংসদ তথা প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান। তাঁর উপস্থিতিতে সকাল থেকেই সরগরম হয়ে ওঠে সুজাপুরের জালালপুরসহ আশপাশের এলাকা। খোলা গাড়িতে রোড শো, সঙ্গে প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন—আর চারপাশে কর্মী-সমর্থকদের বিশাল বাইক র্যালি ও স্লোগানে মুখরিত জনতা, যেন উৎসবের আবহ।
রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন এই প্রচারে। মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে তিনি সাবিনা ইয়াসমিনকে জয়ী করার আবেদন জানান। একই দিনে মোগাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রেও প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। তৃণমূল প্রার্থী মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের সমর্থনে উত্তর লক্ষীপুর থেকে শুরু হওয়া র্যালিতেও দেখা যায় ব্যাপক জনসমাগম।
এতেই থেমে থাকেননি ইউসুফ পাঠান। মালদহ কেন্দ্রের প্রার্থী লিপিকা বর্মন ঘোষের সমর্থনেও বিভিন্ন এলাকায় রোড শো করেন তিনি। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তৃণমূলকে সমর্থনের আহ্বান জানান। সব মিলিয়ে নববর্ষের দিন মালদহে তাঁর এই প্রচার রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে রাজনৈতিক ব্যস্ততার মাঝেও ধরা পড়ল তাঁর এক অন্যরকম রূপ। পহেলা বৈশাখের দিনেই তিনি হঠাৎ পৌঁছে যান পুরাতন মালদার মির্জাপুর মোড়ে অবস্থিত পোরসভার ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামের বাড়িতে। কোনও পূর্বনির্ধারিত সূচি নয়—শুধু একটি ফোনকল, আর তারপরই দরজায় কড়া নাড়া। এমন আকস্মিক আগমনে প্রথমে অবাক হলেও, দ্রুতই আন্তরিক আপ্যায়নে মেতে ওঠেন গৃহকর্তার পরিবার।
মাটির থালা ও গ্লাসে পরিবেশিত ভাত, ইলিশ মাছ, পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা আর আলু ভর্তা—এই সাদামাটা অথচ আবেগঘন বাঙালি খাবারেই মধ্যাহ্নভোজন সারেন ইউসুফ পাঠান। কোনও প্রোটোকল নয়, ছিল শুধুই আন্তরিকতার স্পর্শ। খাওয়ার পর বাড়ির ছোটদের সঙ্গে সময় কাটানো, তাদের আবদার মেটানো, আর বাইরে বেরিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে হাসিমুখে সেলফি তোলা—সব মিলিয়ে একেবারে আপন মানুষের মতো মিশে যান তিনি।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, মালদায় এসে তাঁর খুব ভালো লেগেছে এবং সকলের মঙ্গল কামনা করেন। রাজনৈতিক প্রসঙ্গেও আত্মবিশ্বাসী সুরে বলেন, “দিদি আবার সরকার গড়বেন”—এই বিশ্বাস তাঁর রয়েছে। অন্যদিকে শফিকুল ইসলাম জানান, হঠাৎ এমন আগমন তাঁদের জন্য এক বড় প্রাপ্তি, আর তাঁর সহজ-সরল ব্যবহারে মুগ্ধ হয়েছেন সকলে।
নতুন বছরের দিনেই এমন মানবিক ও সহজাত আচরণের মাধ্যমে মালদার মানুষের মনে বিশেষ জায়গা করে নিলেন ইউসুফ পাঠান।

Recent Comments