আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করলো ভারতের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে টালিগঞ্জ, ভাতার, পিংলা বেলেঘাটা সহ পশ্চিমবঙ্গে মোট নয়টি কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছে তারা।
শুক্রবার প্রার্থীদের নাম প্রকাশের পাশাপাশি নির্বাচনের ইস্তেহারও প্রকাশ করে হিন্দু মহাসভা। রাজ্যের সভাপতি ডঃ চন্দ্রচূড় গোস্বামী নিজে টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর বক্তব্য, “বিধানসভা নির্বাচনের পরই কলকাতা পুরসভা এবং পঞ্চায়েত ভোটেও আমরা নিজস্ব প্রতীকে লড়বো এবং আশানুরূপ ফল করবো বলে আমাদের বিশ্বাস।”
হিন্দু মহাসভার নির্বাচনী ইস্তেহারে যে বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে সেই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রাজ্য সভাপতি বলেন, “আমরাই প্রথম রাজনৈতিক দল যারা SIR এর ফলে একজন যোগ্য ভোটারের নামও যাতে বাদ না পরে এবং একজন অবৈধ ভোটারের নামও যেন তালিকায় না থাকে সেই দাবি করেছিলাম। হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ ও জৈনদের নিঃশর্তে ভোটাধিকার ও নাগরিকত্ব দিতে হবে। মুসলমান ও খ্রিষ্টানদের ক্ষেত্রে তারা যদি বংশ পরম্পরায় ভারতে থাকে এবং তাঁরাও আমাদের মত বসুধৈব কুটুম্বকমে বিশ্বাস করেন, তাহলে তাঁদের আমরা হৃদয়ে রাখি । কিন্তু তাঁরা অনুপ্রবেশকারী হলে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তাঁদের তাড়াতে হবে।”
এছাড়া ইস্তেহারে সকলের জন্য সংরক্ষণ, হালাল বর্জিত অর্থনীতি, প্রার্থীদের নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা, দরিদ্র মেহনতি মানুষদের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সহযোগী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, লাভ জিহাদ ও অর্থনৈতিক জিহাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, অপরাধের সাথে আপোষকারী গান্ধীবাদী মানসিকতার অবসান ঘটিয়ে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর দেখানো পথে দেশসেবা করা এবং সর্বোপরি গোহত্যা বন্ধ করে গোসম্পদকে জাতীয় প্রাণীর সম্মান দেওয়ার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে।
হিন্দু মহাসভার বক্তব্য, যে কোনও মূল্যে হিন্দু সনাতনীদের অগ্রাধিকার দিতেই হবে। কারণ এই দেশ হিন্দুদের দেশ। বিজেপি, তৃণমূল, কংগ্রেস বা হিন্দুমহাসভা সকলকেই হিন্দুদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
কলকাতা প্রেস ক্লাবের অনুষ্ঠানে রাজ্য সভাপতি ছাড়াও অনামিকা মন্ডল, আশুতোষ মজুমদার, শ্রীমন্ত পালিত, প্রিয়ব্রত ভট্টাচার্য্য, দিয়া গাঙ্গুলী, রঞ্জন সাহা, সুতপা দাস, সোমা দে মন্ডল সহ দলের রাজ্য নেতৃত্বের অনেকে উপস্থিত ছিলেন।


Recent Comments