দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত একটি দলীয় কার্যালয় ভাঙাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ তুলে রবিবার সকাল থেকেই এলাকায় কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণে গার্ডরেল বসিয়ে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় এলাকা।
এরপর প্রশাসনের উপস্থিতিতে তিনটি বুলডোজার এনে ভাঙার কাজ শুরু হয়। প্রথমে কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে পুলিশ। পরে ভবনটি ধাপে ধাপে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাংশ বিজেপি কর্মী-সমর্থক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানও দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভবনটি নির্মাণের আগে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ছিল। সেই কারণে সাত দিনের ব্যবধানে দু’দফা নোটিস পাঠানো হয়। নোটিসে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক উত্তর না মেলায় প্রশাসন ভাঙার সিদ্ধান্ত কার্যকর করে।
এছাড়াও প্রশাসনের দাবি, যে জমির উপর কার্যালয়টি তৈরি হয়েছে, সেটি একটি বেসরকারি সংস্থার নামে কেনা হয়েছিল এবং সেই সংক্রান্ত নথি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের বক্তব্য।
অন্যদিকে, এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তিনি আইন মেনেই এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়াই করবেন। ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে জরুরি শুনানির আবেদন করা হয়েছে। ফলে প্রশাসনের এই পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে এখন আদালতের সিদ্ধান্তের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। প্রশাসনের পদক্ষেপ, বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশ—সব মিলিয়ে এই ঘটনায় আগামী কয়েক দিন রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও সরগরম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।


Recent Comments