রবিবার শেষ পর্যন্ত নিরুপদ্রপে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশিত হল বিবেক অগ্নিহোত্রি পরিচালিত রাজনৈতিক নাট্য চলচ্চিত্র ‘ফাইলস’ ট্রিলজির তৃতীয় এবং শেষ ছবি ‘দি বেঙ্গল ফাইলস’। ছবিটি দেখানো ছাড়াও ছিল জাতীয়তাবাদী আলোচনা।

১৯৪৬ সালের কলকাতা দাঙ্গা উপর ভিত্তি করে তৈরি। আগে পশ্চিমবঙ্গে এটি মুক্তি নিয়ে অনেক জল ঘোলা হয়েছে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর ঠিক হয়, আজ এটি দেখানো হবে। এ নিয়ে দু’দিন ধরেই আলোচনা চলছিল। বাম, অতি বামদের আপত্তি রয়েছে। তা উপেক্ষা করে রবিবার বেলা ১০টায় এ বিষয়ে আলোচনা ও ছবিটি দেখানোর কথা ছিল। যদিও শুরু হয় অনেকটা দেরিতে।

যাদবপুরে কয়েক বছর ধরে বারবার বাধা পেয়েছে জাতীয়তাবাদীদের নানা আয়োজন। এদিন ডঃ ত্রিগুণা সেন হলের সামনে ছিল রক্ষীদের ঈষৎ সমাবেশ। উদ্যোক্তারা ন্যাশনালিস্ট স্টুডেন্টস ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্রী তারাদ্রিতা রাউথ জানান, “পুলিশ-প্রশাসনকে বলা ছিল। তারা পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছে।” সংগঠনের সোমসূর্য ব্যানার্জী জানান, “চত্বরে ঊর্দি পড়া পুলিশ ঢোকেনি। সাদা পোষাকের পুলিশ ছিল। আইনশৃঙ্খলা-জনিত সমস্যা হয় নি।”

বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে ছিলেন শ্রীরামপুরের বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী, মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের আধিকারিক ডঃ রজতশুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপি-র দুই মুখপাত্র রাজর্ষি লাহিড়ি ও কেয়া ঘোষ। রজতবাবু যাদবপুরের জাতীয়তাবাদী পড়ুয়ারা যেভাবে বামপন্থীদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক লড়াই চালিয়ে গিয়েছে, তাকে স্বাগত জানিয়ে সেই লড়াই জারি রাখার আবেদন করেন।

ইলেকট্রনিক্স ও টেলি-যোগাযোগ বিভাগের চথুর্থ বর্ষের ছাত্র সোমসূর্য এই প্রতিবেদককে পরে বলেন, রাজর্ষি অভিযোগ করেছেন, বামেরা বরাবর ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করেছে। ‘দি বেঙ্গল ফাইলস’-কে ‘সাম্প্রদায়িক’ তকমা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কেয়া বলেছেন, যাদবপুরের বিশেষ পরিচিতি বামপন্থী ধ্বনির জন্য। সেই যাদবপুরে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি শোনা গেল। দেখা গেল মত প্রকাশের স্বাধীনতা।

বিবেক অগ্নিহোত্রির পূর্ববর্তী দুটি ছবি হল ‘দ্য তাসখন্দ ফাইলস’ এবং ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’।
‘দি বেঙ্গল ফাইলস’ দুই ভাগে মুক্তি পায়, যার প্রথম ভাগের নাম ‘দ্য দিল্লি ফাইলস: রাইট টু লাইফ’, যা ১৫ আগস্ট ২০২৫ সালে ভারতের স্বাধীনতা দিবসে মুক্তি পায়। ছবিটিতে ১৯৪০-এর দশকে অবিভক্ত বাংলায় সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হিংসার উপর আলোকপাত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৪৬ সালের ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে’ এবং ১৯৪৬ সালের নোয়াখালী দাঙ্গার মতো ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত।


Recent Comments