মুক্তচিন্তা ও যুক্তিপূর্ণ বিশ্লেষণ কীভাবে ব্যক্তি ও সমাজকে প্রভাবিত করে, শুক্রবার সেই আলেখ্য কলকাতায় এক আলোচনাসভায় বিশদে পেশ করলেন অধ্যাপক (Inorganic Chemistry) অরুনাভ মিশ্র। ইন্ডিয়ান সায়েন্স নিউজ অ্যাসোসিয়েশন (ইসনা) আয়োজিত ষষ্ঠ বিশ্বপতি মুখার্জি স্মারক বক্তৃতায় ‘যুক্তিবাদ ও ভারতবর্ষ’ (Rationalism and India) শীর্ষক আলোচনায় তিনি ভারত ও পশ্চিমী দেশের সংশ্লিষ্ট ভাবনার পরিবর্তনের ধারা ব্যখ্যা করেন।
যুক্তিবাদ বলতে কী বুঝি, সেই প্রসঙ্গে বিদ্যাসাগর কলেজের রসায়নের অধ্যাপক অরুনাভবাবু বলেন, “এখানে ধর্মীয় বিশ্বাস বা আবেগের জায়গা নেই। ভারতের মতো সব দেশেই কোনও না কোনও সময়ে বিশ্বাস ও যুক্তির বিরোধ হয়েছে। আমরা মুক্তচিন্তা ও যুক্তিপূর্ণ বিশ্লেষনী মনোভাব চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছি। গ্রহণ ও বর্জন করেছি প্রমাণের ভিত্তিতে।”
“যুক্তিবাদীরা স্কেপটিক অর্থাৎ সংশয়বাদী। স্কেপটিসিজম যুক্তিবাদের গোড়ার কথা।” এই মন্তব্য করে অরুনাভবাবু ভারতের ‘হেতুবাদ’, বিশ্বখ্যাত পশ্চিমী চিন্তাবিদের ভাবনা ও তাঁর বইয়ের উল্লেখ করে পশ্চিমী ও ভারতের
যুক্তিবাদের তুলনা করেন। উল্লেখ করেন বেদ, উপনিষদের কথা। আলোকপাত করেন কীভাবে মনুসংহিতায় দেখা হ’ত নারী, দলিত ও সার্বিক সমাজকে।
মার্কুইস ওয়েলেসলি গভর্নর থাকাকালীন কিভাবে ‘রেগুলেশন সিক্স’-এর সহায়তায় এদেশে প্রচলিত গঙ্গায় সন্তান বিসর্জন প্রথা বিলোপ করেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘মল্লিকা’/’বিসর্জন’-এ কিভাবে ফুটে উঠেছিল সেই বিসর্জনের ছবি, সেই ব্যাখ্যাও দেন অরুনাভবাবু। ১৮০২-এর ২৩ আগস্ট নাকি এ রকম ২৩ জনের খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল।
রাজা রামমোহন থেকে বিদ্যাসাগরের যুক্তিবাদ, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় থেকে মীর মোশাররফ হোসেনের ভাবনা, ইতালিয় পদার্থবিদ ও গণিতবিদ ট্যরিসেলি (Evangelista Torricelli), ফরাসি পদার্থবিদ ও গণিতবিদ পাসকালের (Blaise Pascal) বিজ্ঞানমনস্কতার কথাও বিশদে উঠে আসে তাঁর আলোচনায়।
তাঁর আলোচনার খেই ধরে কিছু বিষয় ব্যাখ্যা করেন ‘ইসনা’-র সভাপতি, তথা ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইন্সটিট্যুটের অর্থনীতি বিভাগের অতিথি অধ্যাপক, সাহা ইন্সটিট্যুট অফ নিউক্লিয়ার ফিজিক্সের প্রাক্তন অধিকর্তা অধ্যাপক বিকাশ চক্রবর্তী।
অরুনাভবাবুকে ‘ইসনা’-র স্মারক তুলে দেন অধ্যাপক বিকাশ চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানের সংযোজনার দায়িত্বে ছিলেন ‘ইসনা’-র প্রাক্তনী মৌক্তিক সেনগুপ্ত।


Recent Comments