বারুইপুরে বিজেপি কর্মী বাপি প্রামাণিক খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হলেন চারজন। পুলিশের জালে ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন বিজেপির এক সাসপেন্ডেড নেতা বলেও জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, ধৃত সুজন মণ্ডল এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী।
সোমবার রাতে বারুইপুরের উত্তর ট্যাঙ্গারবেড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃতদের নাম সুজন মণ্ডল, কৃষ্ণ মণ্ডল, কনক মণ্ডল এবং অনিল নাইয়া। মঙ্গলবার তাঁদের বারুইপুর আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
গত রবিবার রাতে খুন হন বাপি প্রামাণিক নামে এক বিজেপি কর্মী। পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে ফোন করে বাড়ি থেকে ডেকে বের করা হয়েছিল। এরপর রাস্তায় তাঁকে মারধর করা হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এই ঘটনার পর মৃতের পরিবারের তরফে সুজন মণ্ডলকে মূল অভিযুক্ত করে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। জেরার সময় তাঁদের বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ার পর চারজনকেই গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে মূল ভূমিকা ছিল সুজন মণ্ডলের। তবে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের দাবি, সুজনকে আগেই দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল এবং বর্তমানে তিনি বিজেপির সক্রিয় সদস্য নন।
বাপি প্রামাণিক দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় বিজেপির সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। বিজেপি সূত্রের দাবি, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অতীতে তাঁকে একাধিকবার এলাকা ছেড়ে থাকতে হয়েছিল। সম্প্রতি তিনি এলাকায় ফিরে একটি দোকানও শুরু করেছিলেন।
বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনায় দলের সদস্যদের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে বারুইপুরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। পুলিশের তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ব্যক্তিগত শত্রুতা, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


Recent Comments