ধর্মীয় উস্কানিমূলক খবর প্রকাশের অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়েই সামনে আসে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্য। সেই সূত্র ধরেই এবার তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ মহম্মদ নাদিমুল হকের বাড়ি, দফতর এবং একাধিক ঠিকানায় অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কলকাতার পাশাপাশি রাঁচি ও দিল্লিতেও চলে তল্লাশি অভিযান।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, কলকাতা, রাঁচি ও দিল্লি থেকে প্রকাশিত একটি উর্দু সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে সম্প্রতি বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, ওই সংবাদপত্রে নিয়মিত এমন কিছু ধর্মীয় উস্কানিমূলক খবর প্রকাশ করা হচ্ছে, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় সংহতির পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে।
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে বিধাননগর পুলিশ। তদন্ত চলাকালীন সংবাদপত্রের সঙ্গে যুক্ত একটি মোবাইল নম্বরের সন্ধান পাওয়া যায়। সেই নম্বরের সূত্র ধরেই একটি বেসরকারি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের খোঁজ মেলে। তদন্তকারীদের দাবি, ওই অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের প্রাথমিক তথ্য সামনে আসে।
এরপর বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কমিশনারেটের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কাছে রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। আর্থিক অনিয়ম ও অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পরবর্তীতে তদন্তে নামে ইডি।
প্রায় ৪৬ বছরের পুরনো ওই উর্দু সংবাদপত্রটির বর্তমান ডিরেক্টরদের মধ্যে রয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হক। সংস্থাটির অন্যান্য ডিরেক্টরদের মধ্যেও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম রয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর।
সোমবার সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কলকাতার সংবাদপত্রের দফতর, নাদিমুল হকের বাসভবন এবং রাঁচি ও দিল্লির একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালান ইডি আধিকারিকেরা। অভিযানে বেশ কিছু ডিজিটাল ডিভাইস ও আর্থিক নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ইডি সূত্রের দাবি, সংবাদপত্র সংস্থা ছাড়াও আরও একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন নাদিমুল হক। দুই সংস্থার আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখে হিসাববহির্ভূত টাকার লেনদেনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান। সন্দেহজনক অর্থের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে, যদিও এ বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট অঙ্ক প্রকাশ করেনি ইডি।
অন্যদিকে, গোটা ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের দাবি, বিজেপি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে ব্যবহার করছে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডেরেক ও’ব্রায়েনও এই অভিযানকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার উদাহরণ বলে মন্তব্য করেছেন।
তৃণমূলের দাবি, অভিযানের সময় নাদিমুল হক সংসদীয় কমিটির কাজে রাঁচিতে ছিলেন। পরে কলকাতায় ফেরার পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
বর্তমানে তল্লাশি অভিযানে উদ্ধার হওয়া নথি এবং ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
উস্কানির অভিযোগ থেকে কোটি টাকার লেনদেনের তদন্ত, তৃণমূল সাংসদ নাদিমুল হকের একাধিক ঠিকানায় ইডির হানা
RELATED ARTICLES


Recent Comments