পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘SIR’ ঘিরে জটিলতা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়া বা নাম অন্তর্ভুক্তি নিয়ে যে বিপুল সংখ্যক আবেদন অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে জমা পড়েছিল, তার বড় অংশেরই এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক হলফনামা অনুযায়ী, রাজ্যে মোট ৩৮ লক্ষ ২০ হাজার ৬৮৩টি আপিল জমা পড়েছিল। এর মধ্যে এখনও পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়েছে ১ লক্ষ ২ হাজার ২৩১টি আবেদন। ফলে ৩৭ লক্ষ ১৮ হাজার ৪৫২টি আবেদন এখনও বিচারাধীন।
SIR-সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর এই আপিলগুলির শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনালগুলির মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। কিন্তু বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়ায় সেই কাজের গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কমিশনের দেওয়া তথ্যেই স্পষ্ট, মোট আবেদনের তুলনায় নিষ্পত্তি হওয়া মামলার সংখ্যা এখনও অনেক কম।
সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় অবশ্য কতগুলি আবেদন ভোটার তালিকায় নাম ফেরানোর জন্য এবং কতগুলি নাম অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করে করা হয়েছে, তা আলাদা করে জানানো হয়নি। এর আগে শুনানিতে আদালতও আবেদনগুলির ধরন আলাদা করে তথ্য দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছিল।
গত ২৫ অগস্ট SIR-সংক্রান্ত শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদনগুলির প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছিলেন। নাম বাদ পড়ার বিষয়টি ভোটাধিকারকে প্রভাবিত করতে পারে বলে উল্লেখ করে কোন ধরনের আবেদনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তা বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে।
কমিশনের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলাভিত্তিক আবেদন ও নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও বড় পার্থক্য রয়েছে। মালদহে মোট ৫ লক্ষ ৩১ হাজার ৩৪৫টি আবেদন জমা পড়লেও নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৫১৪টির। মুর্শিদাবাদে ৭ লক্ষ ৪৭ হাজার ৯২১টি আবেদনের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৫১৪টির। উত্তর ২৪ পরগনায় ৩ লক্ষ ৫৯ হাজার ৩৭৫টি আবেদনের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৩০১টির।
অন্যদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৩ লক্ষ ২১ হাজার ৭৫৪টি আবেদনের মধ্যে ২২ হাজার ৪৯টির নিষ্পত্তি হয়েছে। হুগলিতে ১ লক্ষ ৭ হাজার ১১১টি আবেদনের মধ্যে ২৭ হাজার ৩৫৬টি আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। পুরুলিয়া ও বাঁকুড়াতেও নিষ্পত্তির সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে বেশি।
সব মিলিয়ে কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান বলছে, SIR নিয়ে জমা পড়া আবেদনের বড় অংশ এখনও ট্রাইব্যুনালের বিচারাধীন। ফলে বাকি আবেদনগুলির নিষ্পত্তি কবে এবং কীভাবে হবে, তা নিয়েই এখন নজর রয়েছে।


Recent Comments