
উত্তর ২৪ পরগনার রাজারহাট নিউটাউনে অবস্থিত ড. এ. পি. জে. আব্দুল কালাম গভর্নমেন্ট কলেজ-এর আমন্ত্রণে সোমবার কলেজ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয় ব্যারাকপুরের
গান্ধী স্মারক সংগ্রহালয়। কলেজের এন এস এস ইউনিট ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগিতায় মহাত্মা গান্ধী ও ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দিনব্যাপী আয়োজিত হয় একাধিক শিক্ষামূলক ও আন্তঃক্রিয়ামূলক অনুষ্ঠান।

গান্ধী স্মারক সংগ্রহালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানের সূচনায় তাদের পক্ষ থেকে দেখানো হয় মহাত্মা গান্ধীর জীবন ও কর্মভিত্তিক বিশেষ চলমান প্রদর্শনী ‘মোহন থেকে মহাত্মা’। প্রদর্শনীতে গান্ধীজির জীবনীমূলক দুষ্প্রাপ্য নানান ছবি ও ঐতিহাসিক তথ্য-সহ চরখার প্রতিকৃতি, গান্ধীজির হাতে লেখা চিঠির প্রত্যয়িত প্রতিলিপি এবং তাঁর ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রীর প্রতিলিপি দেখানো হয়। শিক্ষার্থীরা গভীর আগ্রহ ও উৎসাহের সঙ্গে প্রদর্শনীটি পরিদর্শন করে গান্ধীজির জীবন, দর্শন ও আদর্শ বোঝার সুযোগ পায়।

পরে ব্যারাকপুরের ঐতিহাসিক ভূমিকা ও ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাস নিয়ে বিশেষ তথ্যচিত্র দেখানো হয়। দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষ পর্বে গান্ধীজির জীবন ও কর্মকে কেন্দ্র করে সংগ্রহালয়ের দৃশ্য-শ্রাব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আয়োজিত হয় একটি বিশেষ প্রশ্নোত্তর প্রতিযোগিতা। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই পর্ব হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয়। সঠিক উত্তরদাতাদের হাতে সংগ্রহালয়ের পক্ষ থেকে স্মারক মেডেল তুলে দেওয়া হয়।

সংগ্রহালয়ের প্রাচীরের বাইরে বেরিয়ে ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সরাসরি শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগে দিনটি হয়ে ওঠে এক বিশেষ অভিজ্ঞতা—যেখানে প্রদর্শনী, তথ্যচিত্র, উপস্থাপনা ও কুইজের মাধ্যমে ইতিহাস পায় এক নতুন প্রাণবন্ত পাঠ।

গান্ধীজির জীবন ও আদর্শের সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের এই নিবিড় পরিচয়ই আমাদের আগামী দিনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। প্রদর্শনীর শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও তাই মনে হয়—‘মোহন থেকে মহাত্মা’-র এই যাত্রা শেষ নয়; বরং নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে তার পথচলা আজ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।


Recent Comments