Ankita Mondal: আইআইটি বম্বের ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে নড়েচড়ে বসল কর্তৃপক্ষ। দ্বিতীয় বর্ষের বি.টেক ছাত্র সাহিল ওয়াকোড়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ ডুল্লাকে ছুটিতে পাঠানো হল। পাশাপাশি তাকে ডিন (অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাফেয়ার্স) পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, আইআইটি বম্বের বোর্ড অফ গভর্নরস অধ্যাপক ডুল্লাকে ছুটিতে যেতে বলেছে। ছাত্রদের লাগাতার বিক্ষোভের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য ১০ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আইআইটি পালাক্কাদের বোর্ড অফ গভর্নরসের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রমেশ ভেঙ্কটেশ্বরনের নেতৃত্বে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে পড়ুয়ারাও রয়েছেন। কমিটিকে এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
গত শুক্রবার ক্যাম্পাসের ভিতরেই সাহিল ওয়াকোড়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ, পরীক্ষার হলে তাকে হেনস্থা করা হয়েছিল।
মৃত ছাত্রের বাবা রবীন্দ্র ওয়াকোড়ের অভিযোগ, তার ছেলে ক্যাম্পাসে জাতপাত নিয়ে বৈষম্য, গালিগালাজ এবং অপমানের শিকার হয়েছেন। এই কারণেই সে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে।
কিন্তু, সাহিলের মৃত্যুর পর পরই আইআইটি বম্বে কর্তৃপক্ষ একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছিল। সেই বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছিল, পরীক্ষার হলে মোবাইল নিয়ে ঢুকেছিলেন সাহিল। তিনি ChatGPT খুলে গোটা প্রশ্নপত্রটাই তাতে আপলোড করে দিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে উত্তর সংগ্রহ করে লিখছিলেন।
এই প্রক্রিয়ার সময় হলঘরে দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপকের কাছে তিনি ধরা পড়ে যান। এর পর বিভাগীয় প্রধান তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু ওই ঘটনার কোনও প্রভাব ছাত্রের কেরিয়ারে পড়বে না বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন অধ্যাপকেরা, এমনটাই দাবি করেছিলেন কর্তৃপক্ষ।
যদিও কর্তৃপক্ষের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেই পাল্টা দাবি করেছেন সাহিলের অভিভাবকেরা।
থানার সামনে দাঁড়িয়ে সাহিলের বাবা বলেন, “আমরা ক্যাম্পাসে জাতপাতের বৈষম্যের প্রমাণ জমা দিয়েছি। যদি পুলিশ মঙ্গলবার রাতের মধ্যে আইআইটি বম্বের ডিরেক্টর অধ্যাপক শিরীষ কেদারে এবং অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ ডুল্লাকে গ্রেফতার না করে, তাহলে আমি বুধবার থেকে অনশন শুরু করব।”
এদিকে মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চ ইতিমধ্যেই সাহিলের বাবা-মা, পরীক্ষার হলে থাকা অন্যান্য পড়ুয়া এবং হোস্টেলের আবাসিকদের বয়ান রেকর্ড করেছে। বুধবার অধ্যাপক ডুল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে।


Recent Comments