বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপ স্থলভাগে প্রবেশের পর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার রাতেই সেটি সাধারণ নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় নিম্নচাপটি আরও শক্তি হারাবে। তবে তার প্রভাবে শুক্রবারও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার পরিস্থিতি থাকবে। শনিবার থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শুক্রবার সকাল থেকেই কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় দফায় দফায় বৃষ্টি হয়েছে। আকাশ রয়েছে মেঘলা। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদে এ দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তুলনামূলক বেশি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এই জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূমেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
নিম্নচাপের প্রভাবে গত কয়েক দিন ধরেই সমুদ্র উত্তাল রয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে দিঘায় সমুদ্রে স্নান করতে গিয়ে ১৪ বছরের এক কিশোরী তলিয়ে যায়। আবহাওয়া দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, সমুদ্রে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৫৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইছে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ কখনও কখনও ৬৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। শুক্রবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। জলপাইগুড়িতে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। পাশাপাশি কোচবিহার, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবারের পর থেকেই বৃষ্টির দাপট ধীরে ধীরে কমতে পারে। শনিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে নতুন করে কোনও সতর্কতা জারি করা হয়নি। ফলে সপ্তাহান্তে রাজ্যের আবহাওয়ায় ধীরে ধীরে স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।


Recent Comments