উত্তাল সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়া ১৪ বছরের কিশোরী কাশ্মীরা খাতুনের দেহ প্রায় ২২ ঘণ্টা পর উদ্ধার হল দিঘায়। শুক্রবার বিকেলে দিঘার হাসপাতাল ঘাটের কাছে সমুদ্র থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত কিশোরীর বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার শিবদাসপুর থানার ভবাগাছি এলাকায়। মা-বাবার সঙ্গে বাসে করে দিঘায় বেড়াতে এসেছিল সে।
বৃহস্পতিবার প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা এবং সমুদ্রের উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই জলে নামার পর কাশ্মীরা তলিয়ে যায় বলে জানা গিয়েছে। এরপর থেকেই তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়। শুক্রবার বিকেলে হাসপাতাল ঘাটের কাছে তাঁর দেহ দেখতে পাওয়া যায়।
একের পর এক সমুদ্র দুর্ঘটনার পর দিঘা ও মন্দারমণির সৈকতে নজরদারি আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী সৈকতে নুলিয়ার সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে দিঘা ও সংলগ্ন এলাকায় ৬৫ জন নুলিয়া দায়িত্বে রয়েছেন। আগামী ১ অক্টোবর থেকে আরও ৪৫ জন নুলিয়াকে কাজে নিয়োগ করা হবে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, শুধু নুলিয়ার সংখ্যা বাড়ানোই নয়, সৈকতজুড়ে সিসি ক্যামেরার নজরদারিও বাড়ানো হবে। বিশেষ করে স্নানের ঘাটগুলিতে নজরদারি আরও কড়া করা হবে। পর্যটকদের সতর্ক করতে সৈকতের বিভিন্ন জায়গায় সচেতনতামূলক বোর্ডও লাগানো হবে।
শুক্রবারও দিঘায় সকাল থেকে দফায় দফায় বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়া ছিল। ফলে সমুদ্রও ছিল যথেষ্ট উত্তাল। এ দিন বিকেলে সৈকতের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন রামনগরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল, দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের এগজিকিউটিভ অফিসার তথা অতিরিক্ত জেলাশাসক প্রতীক অশোক ধুমাল এবং দিঘা থানার আইসি।
প্রশাসনের দাবি, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পর্যটকদের সমুদ্রে নামার প্রবণতার কারণেই একাধিক দুর্ঘটনা ঘটছে। তাই পুজোর মরসুমে পর্যটকের ভিড় বাড়ার আগেই সৈকতে নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


Recent Comments