
অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে হইচই ফেলে দিয়েছে সনাতনী স্বাস্থ্য সেনা। মঙ্গলবার কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা-কর্ণধার ও বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, মনিপাল হাসপাতালের (ঢাকুরিয়া) অধিকর্তা ডা. প্রকাশ কুমার হাজরা জানিয়ে দিলেন, তার মানে মোটেই এই নয় চিকিৎসক এবং চিকিৎসাকর্মীরা বেছে বেছে রোগী দেখবেন। সবার ওপরে সেবাই সত্য। আমরা মানবতায় বিশ্বাসী।
গত বিধানসভা ভোটের আগে সামাজিক মাধ্যমে তাঁর পোস্টকে কেন্দ্র করে আলোড়ন হয়। সেখানে কার্ডিওলজিস্ট পিকে হাজরা জানান, যেসব রোগী তাঁর চেম্বারে এসে ‘জয় শ্রী রাম’ বলবেন, মাসুলে তাঁদের বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে। বালিগঞ্জের এই চিকিৎসকের দেড় হাজার টাকা ভিজিট৷ সেখান থেকে বাদ দেওয়া হবে ৫০০ টাকা৷ এই ঘোষণার পরই সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, একজন চিকিৎসক কীভাবে এধরনের শর্ত আরোপ করতে পারেন। চিকিৎসা পেশার নীতি-নৈতিকতা নিয়েও ওঠে প্রশ্ন।

এছাড়াও ওই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ পিকে হাজরা তাঁর ক্লিনিকে একটি পোস্টার টাঙান৷ যেখানে তাঁকে বিজেপির উত্তরীয় পরে দেখা যায়৷ সঙ্গে তিনি যে ছাড় দিচ্ছে তারও ঘোষণা করা হয়। ওই সমস্ত কিছু তিনি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন।
রবিবার প্রকাশবাবুর নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী ভাবধারায় প্রতিষ্ঠিত স্বাস্থ্য সংগঠনে নতুন সূচনার কথা জানানো হয়। মঙ্গলবার তিনি বলেন, নয়া সংগঠনের সঙ্গে ইতিমধ্যে যুক্ত হয়েছেন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের প্রায় ১২৫০ চিকিৎসক। নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এবং এমবিবিএস পড়ুয়া– এসব রয়েছে আরো প্রায় ৫০০০।
সমালোচনার মুখে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে পি কে হাজরা মোটর আগে বলেন, “চিকিৎসক হয়েও যেমন বিধানচন্দ্র রায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হতে পেরেছিলেন, কিংবা চিকিৎসক শান্তনু সেন রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে সাংসদ হয়েছেন৷ তেমনই আমিও মত প্রকাশের অধিকার রাখি।” তাঁর দাবি ছিল, ‘জয় শ্রী রাম’ শুধুমাত্র ধর্মীয় নয়, এটি এখন এক রাজনৈতিক স্লোগান৷ আর সেই কারণেই তিনি নিজের পেশার মাধ্যমেই তা প্রচার করছেন ৷

সুস্থ থাকার প্রাথমিক শর্ত হিসাবে প্রকাশ হাজরা এদিন বলেন, “শরীরের ওপর যত্ন নেওয়া, কোনো অসুস্থতা হলে তার ফেলে না রাখা, নেশার সামগ্রি থেকে দূরে থাকা এসব গুরুত্বপূর্ণ। তবে, এসবের চেয়েও মূল্যবান সুখে থাকা। বিশেষ করে সুখী পরিবার। গুড ফ্যামিলি। হ্যাপিনেস আজ দ্যা মোস্ট ইম্পর্টেন্ট প্যারামিটার। এক্সার্সাইজের চেয়েও এই সুখের ব্যাপারটা বেশি দরকারী।”
ভালো চিকিৎসার জন্য দক্ষিণ ভারতে চলে যান অসংখ্য বাঙালি। সেই ‘দক্ষিণে চলো’ প্রবণতাকে ঠেকাতে চায় সনাতনী স্বাস্থ্য সেনা। ডা. পিকে হাজরার দাবি, ‘‘বঙ্গে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ আনতে চলেছি আমরা।” একাধিক দাবি, উদ্দেশ্য নিয়ে আগামীতে কাজ করতে চায় সনাতনী স্বাস্থ্য সেনা। ডা. পিকে হাজরা জানিয়েছেন, রক্তদান শিবির, চিকিৎসক নিগ্রহ ঠেকানো, হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা বাড়ানো এই সমস্ত বিষয় নিয়েই কাজ করবে সনাতনী স্বাস্থ্য সেনা। সরকারি-বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের অসংখ্য চিকিৎসক রয়েছেন সনাতনী স্বাস্থ্য সেনার অধীনে। রয়েছেন ভারত মহারাজ, কার্তিক মহারাজরাও।

‘সনাতনী স্বাস্থ্য সেনা’ নামে সেই ছাতার সদস্য হিসাবে নিজেদের ‘রাষ্ট্রবাদী’ ঘোষণা করে এক ছাতার তলায় জড়ো হয়েছেন শহরের একঝাঁক খ্যাতনামা চিকিৎসক। এই সংগঠনের ন্যাশনাল চেয়ারম্যান ডা. পি কে হাজরা আসন্ন আইএমএ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্রসঙ্গত, গ্রাম থেকে শহরে চিকিৎসা করাতে এসে হন্যে হয়ে ঘোরেন। এমন মানুষদের সাহায্য করতে শুরু হচ্ছে টোল ফ্রি হেল্প লাইন। এ কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘‘নতুন টোল ফ্রি নম্বর ঘোষণা করা হবে শীঘ্রই। সেই নম্বরে ফোন করলে যেমন সংগঠনের সদস্য হতে পারবেন, তেমনই মিলবে হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা।”


Recent Comments