back to top
Thursday, October 15, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeসম্পাদকীয়নেহা বোরা, বাংলাদেশের ধ্বংসস্তূপ কি ভারতের তরুণদের পথ দেখাবে?

নেহা বোরা, বাংলাদেশের ধ্বংসস্তূপ কি ভারতের তরুণদের পথ দেখাবে?

—এফ এম শাহীন
(লেখক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সংগঠক)।

ভারতের তরুণ আন্দোলনকর্মী নেহা বোরার একটি মন্তব্য সম্প্রতি গণমাধ্যমে চোখে পড়ার পর আমি থমকে গিয়েছিলাম। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং ভারত সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পরিচিত মুখ নেহা বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের আন্দোলন ও সরকার পতনের ঘটনাকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, “বাংলাদেশের তরুণেরা আমাদের পথ দেখিয়েছে।”

কথাটি আপাতদৃষ্টিতে তারুণ্যের সাহস, প্রতিবাদ ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার প্রশংসা। কিন্তু যে দেশের ঘটনাপ্রবাহকে আপনি অন্য একটি দেশের তরুণদের জন্য আদর্শ হিসেবে তুলে ধরছেন, সেই দেশের পরিবর্তনের পর কী ঘটেছে, তার মূল্যায়ন কি আপনার দায়িত্বের বাইরে থাকতে পারে?

নেহা, আপনার বক্তব্যের পর আমার মনে একটি প্রশ্নই বারবার ফিরে এসেছে—বাংলাদেশের ৫ আগস্ট ২০২৪-পরবর্তী বাস্তবতা সম্পর্কে আপনার পর্যাপ্ত ধারণা থাকলে আপনি কি একইভাবে এই আন্দোলনকে ভারতের তরুণদের জন্য অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরতেন?

আপনার বক্তব্যের প্রকৃত প্রেক্ষাপট আমি জানি না। আপনি হয়তো আন্দোলনের সাহসী মুহূর্তটিকে দেখেছেন, কিন্তু তার পরবর্তী পরিণতি দেখেননি। আবার এমনও হতে পারে, আপনি সবকিছু জেনেই এই মূল্যায়ন করেছেন। প্রথম সম্ভাবনাটি হলে আপনার কাছে আমার অনুরোধ, বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা সম্পর্কে আরও জানুন। দ্বিতীয়টি সত্য হলে আপনার রাজনৈতিক বিচারবোধ নিয়েই আমার গভীর উদ্বেগ থাকবে।

সরকারের পতন আর রাষ্ট্রের পতন এক বিষয় নয়। সরকার পরিবর্তন গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্বাভাবিক সম্ভাবনা; কিন্তু রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান, সংবিধান, নাগরিকের নিরাপত্তা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং ঐতিহাসিক পরিচয় বিপর্যস্ত হলে তাকে নিছক রাজনৈতিক বিজয় বলা যায় না।

বাংলাদেশের নির্বাচনব্যবস্থা, শাসন, দুর্নীতি, গণতান্ত্রিক অধিকার কিংবা ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ নিয়ে সমালোচনার অবকাশ ছিল এবং আছে। কোনো সরকারই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। কিন্তু একটি সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে যদি রাষ্ট্রের মৌলিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়ে, যদি প্রতিশোধের রাজনীতি আইনের শাসনকে গ্রাস করে, যদি ভিন্নমতের মানুষ নিরাপত্তাহীন হয়ে ওঠে, তাহলে সেই পরিবর্তনের সাফল্য পরিমাপ করা হবে কী দিয়ে?

বাংলাদেশ একসময় আন্তর্জাতিক পরিসরে দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক দুর্বলতার প্রতীক হিসেবে আলোচিত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে দেশটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক সূচক এবং তৈরি পোশাকশিল্পের সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে পরিচিতি অর্জন করে। সেই অগ্রযাত্রার সীমাবদ্ধতা ছিল, বৈষম্য ছিল, রাজনৈতিক সংকটও ছিল। কিন্তু এসব বাস্তবতা কি দেশের প্রতিটি অর্জনকে অস্বীকার করার অনুমতি দেয়?

২০২৪ সালের আন্দোলনকে ঘিরে দেশি-বিদেশি নানা শক্তির ভূমিকা, অর্থায়ন এবং ভূরাজনৈতিক স্বার্থ এবং শেখ হাসিনা সরকার পতনের জন্য ডীপ স্টেটের মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কথা দেশি বিদেশি নানা গণমাধ্যমে এসেছে। স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখ থেকে বেড়িয়ে এসেছে এই জঘন্য ও সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্রের নীল নকশার কথা।

আরো পড়ুন:  জমে উঠছে দেওয়াললিখনে ভোট

নেহা, সরকার বদলানোর অধিকার আছে, দেশকে জিম্মি করার অধিকার নেই। পৃথিবীর ইতিহাসে অসংখ্য আন্দোলন সরকার বদলেছে। কোথাও সেই পরিবর্তন গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেছে, কোথাও জন্ম দিয়েছে নতুন স্বৈরতন্ত্রের। বিপ্লবের নামে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটলেই মানুষের মুক্তি নিশ্চিত হয় না। কখনো কখনো পুরোনো শাসকের পতনের মধ্য দিয়েই নতুন দমন-পীড়নের দরজা খুলে যায়।

তাই প্রশ্নটি সরকার পতন নিয়ে নয়; প্রশ্নটি হলো, সেই পতনের পর কোন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলো, নাগরিকের অধিকার কতটা সুরক্ষিত থাকল এবং দেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কার হাতে রইল।

কোনো আন্দোলনে বিদেশি শক্তির অর্থায়ন বা প্রভাব, বিদেশি হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার সরলতা দেখাবেন না। একটি দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের মূল্যায়নে দেশীয় জনঅসন্তোষ, নেতৃত্বের ভূমিকা, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা এবং আন্তর্জাতিক স্বার্থ সবকিছুকেই বিবেচনায় নিতে হয়।

কিন্তু যে পরিবর্তনের পর নাগরিকের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আতঙ্কে দিন কাটায়, ভিন্নমতের মানুষ প্রতিশোধের আশঙ্কায় আত্মগোপন করে এবং আইনের বদলে জনতার উন্মত্ততা বিচারকের আসন দখল করে, সেই পরিবর্তনকে নিঃশর্তভাবে অনুকরণীয় বলা যায় কীভাবে?

যে প্রশ্নগুলোর উত্তর তরুণ আন্দোলনকর্মীদেরও দিতে হবে। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় এবং পরবর্তী সময়ে পরিকল্পিতভাবে শত শত পুলিশ হত্যা, রাষ্ট্রীয় স্থাপনা ধ্বংস, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা, হত্যা, অগ্নিসংযোগ এবং প্রতিশোধমূলক সহিংসতার নির্মম ছবি সমগ্র পৃথিবী দেখেছে । অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, হত্যার দায় তারই; কোনো আন্দোলনের জনপ্রিয়তা অপরাধের দায়মুক্তি দিতে পারে না।

নেহা, আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন সেই পরিস্থিতিকে, যেখানে জনতার হাতে আইন তুলে নেওয়ার ঘটনা নাগরিকের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে? কীভাবে দেখবেন ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, বাড়িঘর ও উপাসনালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং বাস্তুচ্যুতির অভিযোগকে? কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগগুলোকে, যেগুলোর প্রতিটি ক্ষেত্রে সত্য উদ্‌ঘাটন ও অপরাধীর বিচার অপরিহার্য?

একইভাবে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, স্বাধীনতার স্মারক এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্নের ওপর হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনাগুলোও উপেক্ষা করার মতো নয়। ধানমন্ডি ৩২-এর বাড়ি বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিস্থান। কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উত্তরাধিকার নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, তার শাসনামলের সমালোচনাও হতে পারে; কিন্তু ইতিহাসের নিদর্শন ধ্বংস করা কি যুক্তির জয়, নাকি ইতিহাসের সঙ্গে বিবাদ মেটাতে অক্ষমতার প্রকাশ?

আরো পড়ুন:  রেডিয়ো ও আমার স্মৃতি

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত। ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের স্মৃতি, অসংখ্য নারীর ওপর সংঘটিত নির্যাতন এবং কোটি মানুষের সংগ্রাম এই রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তির অংশ। সেই ইতিহাসকে বিকৃত করা, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক অপমান করা কিংবা সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রচিন্তার কাছে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের আদর্শকে সমর্পণ করা কোনো প্রগতিশীল আন্দোলনের গৌরব হতে পারে না।

নেহা, আপনি ভারতের সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন। সরকারের নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, বৈষম্য কিংবা গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা আপনার রাজনৈতিক অধিকার। একটি সুস্থ গণতন্ত্রে তরুণদের প্রতিবাদ প্রয়োজন। কিন্তু প্রতিবাদের নৈতিক শক্তি নির্ভর করে তার লক্ষ্য, পদ্ধতি এবং পরিণতির ওপর।

আপনি নিশ্চয়ই চান না, ভারতের কোনো রাজনৈতিক সংকটকে কাজে লাগিয়ে ধর্মীয় উগ্রবাদী শক্তি বা সাম্রাজ্যবাদী ডীপ ষ্টেটের খেলোয়াড়রা রাষ্ট্রের ওপর প্রভাব বিস্তার করুক। আপনি নিশ্চয়ই চান না, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে আইনের বদলে জনতার সহিংসতা ব্যবহৃত হোক। আপনি নিশ্চয়ই চান না, ভারতের বহুত্ববাদী সমাজে সংখ্যালঘু মানুষ পরিচয়ের কারণে নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ুক, কিংবা স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসকে কোনো সংকীর্ণ মতাদর্শের প্রয়োজনে পুনর্লিখন করা হোক।

তাহলে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতাকে মূল্যায়ন করার সময় এই প্রশ্নগুলো কেন সামনে আসবে না?

ভারত ও বাংলাদেশের ইতিহাস, রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা এক নয়। বাংলাদেশের প্রতিটি ঘটনাকে ভারতের ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি মিলিয়ে দেখাও যুক্তিসংগত হবে না। কিন্তু প্রতিবাদের নামে সহিংসতা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা, অসহিষ্ণুতা এবং উগ্রবাদের উত্থান—এসব বিপদ সীমান্ত মানে না। এ কারণেই বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া যেতে পারে; তবে সেই শিক্ষা হবে অন্ধ অনুকরণের নয়, সতর্ক বিশ্লেষণের।

নেহা, আমি বাংলাদেশের একজন লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কারণে নিজের দেশ থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে আমাকে। আমার কাছে নির্বাসন কোনো রোমান্টিক অভিজ্ঞতা নয়। এটি প্রতিদিন নিজের শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার যন্ত্রণা; নিজের মাটিতে ফিরে যেতে পারব কি না, সেই অনিশ্চয়তা।

আমি জানি না, কবে আবার বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়াতে পারব। জানি না, শৈশবের স্মৃতি, পরিচিত পথঘাট, প্রিয় মানুষ এবং নিজের দেশের আকাশের নিচে নির্ভয়ে বেঁচে থাকার অধিকার ফিরে পাব কি না।

আমার রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে আপনি একমত না-ও হতে পারেন। আমার মূল্যায়ন ভুলও হতে পারে। কিন্তু একজন নির্বাসিত মানুষের ভয়কে কেবল রাজনৈতিক বিরোধিতার অজুহাত বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তার অভিজ্ঞতা শুনুন, অভিযোগগুলো যাচাই করুন, ভিন্নমতের মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলুন।

আরো পড়ুন:  সকাল ৬টার ইমেইল ও এআই (AI)-এর খিদে: আইটি খাতে চাকরি হারানোর ডায়েরি

আমার এই উদ্বেগ কোনো দেশের তরুণদের প্রতিবাদ করার অধিকার অস্বীকার করে না। বরং আমি চাই, তরুণেরা এমন পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখুক, যেখানে স্বাধীনতা আরও বিস্তৃত হবে, নাগরিকের অধিকার আরও সুরক্ষিত হবে এবং রাষ্ট্র আরও মানবিক হয়ে উঠবে।

নেহা, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হওয়া ভারতবর্ষের মানুষের কাছে স্বাধীনতার অর্থ শুধু বিদেশি শাসকের বিদায় নয়। স্বাধীনতার অর্থ নিজের ভবিষ্যৎ নিজে নির্ধারণ করা। সেই স্বাধীনতা রক্ষা করতে হলে বিদেশি শক্তির সম্ভাব্য হস্তক্ষেপকে যেমন প্রশ্ন করতে হবে, তেমনি দেশীয় ক্ষমতাবানদের স্বেচ্ছাচার, ধর্মীয় উগ্রবাদ এবং গণতন্ত্রবিরোধী প্রবণতারও বিরোধিতা করতে হবে।

বাংলাদেশের তরুণেরা আপনাকে পথ দেখিয়েছে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের দিকে তাকান। তাঁদের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা, অধিকার, জীবিকা, ইতিহাস এবং ভবিষ্যতের দিকে তাকান। যাঁরা দেশ হারানোর ভয়ে আছেন, যাঁরা ঘর হারিয়েছেন, যাঁরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে শঙ্কিত, তাঁদের কণ্ঠও শুনুন।

কারণ বিপ্লবের সবচেয়ে বড় সাফল্য কোনো শাসকের পতন নয়; বিপ্লবের সাফল্য হলো মানুষের মুক্তি। যে আন্দোলন মানুষের স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারে না, তাকে ইতিহাসের আদর্শ বানানোর আগে প্রশ্ন করা জরুরি।

আপনার প্রতি আমার আহ্বান, বাংলাদেশকে দেখুন, কিন্তু শুধু ৫ আগস্টের দৃশ্য দেখে নয়; তার পরের দিনগুলোও দেখুন। স্লোগান শুনুন, কিন্তু নিপীড়িতের কান্নাও শুনুন। বিজয়োল্লাস দেখুন, কিন্তু নির্বাসিত মানুষের ঘরে ফেরার আকুতিও শুনুন।

তারপর সিদ্ধান্ত নিন, বাংলাদেশের তরুণেরা সত্যিই ভারতের পথ দেখিয়েছে, নাকি বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ভারতীয় তরুণদের জন্য এক গভীর সতর্কবার্তা হয়ে আছে।

একজন প্রতিবাদী তরুণীর কাছে একজন নির্বাসিত বাঙালির এই প্রশ্নটুকু থাকুক—আমরা কি এমন স্বাধীনতা চাই, যেখানে সরকার বদলায়, কিন্তু মানুষ নিরাপত্তা হারায়; পতাকা ওড়ে, কিন্তু নাগরিকের অধিকার মাটিতে লুটিয়ে পড়ে?

আমি এমন স্বাধীনতা চাই না। আমি চাই এমন বাংলাদেশ, যেখানে মতের ভিন্নতা অপরাধ নয়, ধর্মীয় পরিচয় বিপদের কারণ নয়, ইতিহাস ধ্বংসের বস্তু নয় এবং দেশপ্রেমের মূল্য নির্বাসন নয়।

নেহা, আপনি যদি সত্যিই তরুণদের মুক্ত ভবিষ্যৎ চান, তবে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতাকে একবার নয়, বারবার প্রশ্ন করুন। কারণ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—জনতার উল্লাস কখনো কখনো মুক্তির সূচনা করে, আবার কখনো সেই উল্লাসের আড়ালেই জন্ম নেয় নতুন পরাধীনতা।

বিপ্লবের রোমান্টিকতা থেকে নয়, রাষ্ট্রের বিপর্যয় দেখা এক নির্বাসিত বাঙালির উদ্বেগ রেখে গেলাম। নেহা বোরা, দয়া করে বিপ্লবের নামে ধ্বংসকে আদর্শ বানাবেন না।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments