ভোট ভোট ভোট। ভোট শেষ। এবার নয়া মন্ত্রিসভা দায়িত্ব নেবে। কেউ বলছেন ম্যান অফ দি ম্যাচ ইসি। কেউ বলছেন জ্ঞানেশকুমার। কিন্তু নেপথ্যে কুশিলবের মতো হাজারো ঝড়ঝাপ্টা সামলে সিদ্ধান্ত রূপায়ণের কাজটা করেছেন মূলত পশ্চিমবঙ্গের অতিরিক্ত সিইও অরিন্দম নিয়োগী। তিনি উত্তর দিলেন নিউজস্কোপ বাংলার সম্পাদক অশোক সেনগুপ্তকে।
প্রশ্ন— ১) অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন। একটা দুরূহ, অত্যন্ত কঠিন দায়িত্ব সফলভাবে সামলিয়েছেন। কেমন লাগছে?

উত্তর— ১. আমাদের চাকরিজীবনে এই ধরনের পরীক্ষার বিশেষ করে নির্বাচন সংক্রান্ত, এর আগে অনেকবার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ১৯৯৭ সালের পঞ্চায়েত সাধারণ নির্বাচনে ব্লকের বিডিও হিসেবে সামলানো এতদিন পর্যন্ত সব থেকে দুরূহ নির্বাচন বলে আমার কাছে পরিগণিত ছিল। সেই সময় নির্বাচন শেষ হওয়ার পরে পোলিং স্টেশনেই এই গণনা করা হতো। প্রায় তিন দিন ও তিন রাত এই কর্মযজ্ঞ চলতো। তার খুব কাছাকাছি থাকবে এবারের নির্বাচন। অত্যন্ত কঠিন দায়িত্ব ছিল সন্দেহ নেই কিন্তু আমার মাথার উপরে পেয়েছি তিনজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ আধিকারিক।প্রথমেই নাম করবো মনোজ কুমার আগরওয়াল, IAS, যিনি ছিলেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। তারপর সুব্রত গুপ্ত ও নন্দকিশোর মিশ্র— দুজনেই নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক। এঁরা মাথার উপরে থাকায় দুরূহ কাজটাও কিন্তু সহজ হয়েছে।
প্রশ্ন— ২) কিরকম লাগছে?

উত্তর—এক কথায় বলতে হয় যে তৃপ্ত এবং সন্তুষ্ট। কারণ আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল দুটি – প্রথম- সমস্ত ভোটাররা যাতে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এবারের ভোটে ভোট পড়েছে ৯৩.০৫ % যা এযাবৎকালে নজিরবিহীন। দ্বিতীয় উদ্দেশ্য ছিল মানুষ যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে। এই নির্ভয় ভোট দেওয়ার পরিবেশ যে আমরা তৈরি করতে পেরেছি সেটাই আমাদের সাফল্য ।
প্রশ্ন ৩) আপনি সরকারি চাকরিতে কবে যোগ দিয়েছেন? গত ছ’মাসের মত চাপের মুখোমুখি আর কখনও পড়তে হয়েছে?

উত্তর— আমি সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছি ১৯৯৫ সালে। গত ছয় মাসের মতো চাপ যদি নির্বাচন সংক্রান্ত বলেন, তাহলে ১৯৯৫ এর পরে যার কথা আগেই বলেছি, সেটা ছিল ২০১১ সালের বিধানসভা সাধারণ নির্বাচনের। তখন আমি ছিলাম আরামবাগ মহকুমার মহাকুমা শাসক ও রিটার্নিং অফিসার।
প্রশ্ন ৪) ফলপ্রকাশের দিন রুটিনটা কিরকম ছিল? আজ কিরকম পরিকল্পনা?

উত্তর— চৌঠা মেয়ে ছিল ভোট গণনা। CEO অফিসে আমাদের এই দিন খুব বেশি কাজ থাকে না। টিভিতে খবর দেখা, নির্বাচন কমিশনের ENCORE সফটওয়্যারে রিটার্নিং অফিসাররা কিভাবে ভোটের রাউন্ড অনুযায়ী ফলাফল আপলোড করছেন সেগুলি সুপারভাইজ করা প্রভৃতি। মূল গণনা শুরুতে প্রথমে পোস্টাল ব্যালটের গণনা হয়। তার সঙ্গে ৮.৩০ থেকে যখন ইভিএম গণনা শুরু হল এবং প্রথম এক দুই রাউন্ডেই বোঝা গেল যে মানুষ নির্ভয় ভোট দিতে পেরেছে তাতে একটা অন্যরকম তৃপ্তি পাওয়া গেল। মূল কাজ আমাদের Statuory cell এর শুরু হয় গণনা শেষে সময় থেকে। প্রচুর রিপোর্ট এবং হিসেব পাঠাতে হয়। সন্ধ্যে থেকে গভীর রাত অবধি ব্যস্ততা ছিল। গতকাল (বুধ) এবং আজও প্রচুর রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনে গিয়েছে। তার জন্য সারাদিনই ব্যস্ততা।
প্রশ্ন ৫) গত ছ’মাসে স্মরণীয় মুহূর্ত?

উত্তর— নির্বাচন আমাদের কয়েক বছর পর পরই করতে হয় কিন্তু স্মরণীয় অভিজ্ঞতা বলতে SIR এর এবং SIR যেভাবে হলো পশ্চিমবঙ্গ এবং সারা দেশে তা এর আগে কখনো হয়নি। সুপ্রিম কোর্ট যেদিন রায় দিয়েছিল যে জুডিশিয়াল অফিসাররা SIR-এর বাকি কাজ সম্পন্ন করবেন সেই অভাবনীয় আদেশনামা সত্যিই আমার কাছে স্মরণীয়।
প্রশ্ন ৬) একঘেয়েমির শিকার হয়েছেন কতটা?

উত্তর— নির্বাচন দপ্তরে আমি যোগ দিয়েছি ২০২১ সালের মার্চ মাসে বিধানসভা নির্বাচনের দেড় মাস আগে। একঘেয়েমি প্রশ্নই নেই কারণ প্রতিনিয়ত নতুন নতুন নির্দেশিকা, নতুন ধরনের কাজের পরিধি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়ে চলেছে। SIR একটা নতুন জিনিস, জুডিশিয়াল অফিসারদের রায়ের পর ট্রাইব্যুনালে এই ধরনের নতুন নির্দেদশিকা ও কাজ এখানে চলতেই থাকে। এরপর আগামী ২১শে মে ফলতা বিধানসভা ক্ষেত্রের পুনরায় নির্বাচন। কাজেই একঘেয়েমির কোন সুযোগ নেই।
প্রশ্ন ৭) গত ছ’মাসে আপনার সবচেয়ে খুশির মুহূর্ত, সবচেয়ে দুঃখের মুহূর্ত?

উত্তর— খুশির মুহূর্ত আগেই বলেছি ৪ তারিখে বেলা দশটার পর। আর দুঃখের মুহূর্ত আমার জানা নেই। কারন এই পদে থেকে যে কাজটা আমরা করি সেখানে আগতপ্রায় কোনও দুঃখের মুহূর্ত এগিয়ে যাওয়াই সাফল্যের সোপান।


Recent Comments