back to top
Sunday, September 20, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeরাজ্য ও রাজনীতিমোদি–শি বৈঠক: ভারত-চীন সম্পর্কে কি নতুন করে শুরু হচ্ছে?

মোদি–শি বৈঠক: ভারত-চীন সম্পর্কে কি নতুন করে শুরু হচ্ছে?

Sharanya Ghosh: দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর ভারত ও চীনের সম্পর্ক কি আবারও স্বাভাবিকতার পথে ফিরছে? শনিবার নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক ঘিরে এখন এই প্রশ্নই সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।

প্রায় সাত বছর পর ভারতের মাটিতে শি জিনপিংয়ের উপস্থিতি এবং দুই রাষ্ট্রনেতার সরাসরি বৈঠক কূটনৈতিক দিক থেকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২০ সালের লাদাখ সীমান্ত সংঘর্ষের পর ভারত-চীন সম্পর্ক যে জায়গায় পৌঁছেছিল, সেখান থেকে ধীরে ধীরে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা শুরু হয়েছিল। এবারের বৈঠক সেই প্রক্রিয়াকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

সীমান্তই এখনও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

ভারতের কাছে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রথম শর্তগুলোর একটি হল সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি স্পষ্ট করে দেন যে সীমান্ত এলাকায় শান্তি বজায় রাখা এবং আগের চুক্তিগুলো মেনে চলা ভারত-চীন সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, শি জিনপিং দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত সহযোগিতার ওপর জোর দেন। দুই দেশের নেতারাই মনে করেন, মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু সেই মতপার্থক্য যেন নতুন করে সংঘাতের কারণ না হয়ে ওঠে।

শুধু সীমান্ত নয়, অর্থনীতিও গুরুত্বপূর্ণ

ভারত ও চীনের সম্পর্কের আরেকটি বড় দিক হল বাণিজ্য। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ অনেক হলেও বাণিজ্য ঘাটতি, বাজারে প্রবেশের সুযোগ এবং বিনিয়োগ নিয়ে ভারতের বেশ কিছু উদ্বেগ রয়েছে।

তাই সম্পর্কের উন্নতি হলে ব্যবসা, বিনিয়োগ, যোগাযোগ এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে আদান-প্রদান আরও বাড়তে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে সরাসরি বিমান পরিষেবা ও ভিসা সংক্রান্ত কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হওয়াও সেই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তাহলে কি সত্যিই ‘Reset’ হতে চলেছে সম্পর্ক?

এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

একটি বৈঠকেই বহু বছরের অবিশ্বাস বা সীমান্ত সমস্যা মুছে যাবে—এমনটা বলা কঠিন। ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ এখনও পুরোপুরি সমাধান হয়নি। পাশাপাশি বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক কৌশল নিয়েও দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

আরো পড়ুন:  শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার হলেন সদ্যপ্রাক্তন মন্ত্রী, প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সুজিত বসু

তবে এই বৈঠককে একেবারে ছোট করে দেখারও সুযোগ নেই। কারণ, সংঘাতের পর সম্পর্ককে স্বাভাবিক করার জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর একটি হল সরাসরি রাজনৈতিক যোগাযোগ। মোদি–শি বৈঠক সেই যোগাযোগের দরজা আরও খুলে দিয়েছে।

সামনে কোন পথে ভারত-চীন সম্পর্ক?

এই মুহূর্তে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত ছবি হল—সম্পূর্ণ বন্ধুত্ব নয়, বরং সতর্ক সহযোগিতা।

দুই দেশই নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে চায়, আবার একই সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত ও বড় অর্থনৈতিক সম্পর্কের কারণে একে অপরকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলাও সম্ভব নয়। তাই আগামী দিনে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা, বাণিজ্যিক সম্পর্কের ভারসাম্য তৈরি করা এবং নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

মোদি–শি বৈঠক হয়তো রাতারাতি ভারত-চীন সম্পর্ক বদলে দেবে না। কিন্তু দীর্ঘ অন্ধকারের পর কূটনীতির টেবিলে আবার আলোচনার জায়গা তৈরি হওয়াটাই হতে পারে একটি নতুন শুরুর ইঙ্গিত।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা শুধু ‘ভারত ও চীন বন্ধু হবে কি না’—তা নয়। বরং প্রশ্ন হল, দুই দেশ কি নিজেদের মতপার্থক্য সামলে ভবিষ্যতের জন্য একটি স্থিতিশীল সম্পর্ক তৈরি করতে পারবে?

সময়ই তার উত্তর দেবে।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments