নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনের তরফে তোলাবাজির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের বার্তা দেওয়া হলেও মালদহের চাঁচলে ফের প্রকাশ্যে উঠল বেআইনি টাকা আদায়ের অভিযোগ। আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চর্চা।
অভিযোগ, চাঁচল এলাকায় বাইরে থেকে আসা পণ্যবাহী লরিগুলির কাছ থেকে জোর করে ৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। ‘নর্থ মালদহ ড্রাইভার কল্যাণ সমিতি’ নামাঙ্কিত একটি কুপন ধরিয়ে এই টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থলে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরাতেও ধরা পড়ে পুরো বিষয়টি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইলিয়াস নামে এক ব্যক্তি রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে লরির চালকদের হাতে কুপন তুলে দিয়ে টাকা সংগ্রহ করছিলেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরেই এই পদ্ধতিতে টাকা তোলা হচ্ছে। তবে কার নির্দেশে এই অর্থ আদায় করা হচ্ছে বা কী উদ্দেশ্যে এই টাকা নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্টভাবে কিছু বলতে পারেননি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে এলাকায় তোলাবাজির একটি স্থায়ী সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। সরকার বদলের পরও সেই চিত্র পুরোপুরি পাল্টায়নি বলেই তাঁদের দাবি। তবে নতুন প্রশাসন এই ধরনের বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দারা।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। বিজেপির উত্তর মালদহ জেলার সহ-সভাপতি তথা চাঁচলের বিজেপি প্রার্থী রতন দাস অভিযোগ করে বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে তোলাবাজি একপ্রকার ‘সংস্কৃতি’-তে পরিণত হয়েছিল। এখন সেই সংস্কৃতির অবসান হওয়া প্রয়োজন। তিনি পুলিশ প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে তদন্ত ও কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

Recent Comments