তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের আবহে জয়নগরের সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল নিজের নাম তথাকথিত ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের তালিকায় থাকার দাবি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তিনি কোনও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত নন এবং দল ছাড়ারও কোনও পরিকল্পনা তাঁর নেই।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন ছড়ায় যে তৃণমূলের একাংশ সাংসদ দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের পথে হাঁটতে চাইছেন। দাবি করা হয়, কয়েকজন সাংসদের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে সংসদে শাসক জোটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে। সেই তালিকায় প্রতিমা মণ্ডলের নাম রয়েছে বলেও খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে সেই জল্পনায় জল ঢেলে সাংসদ জানান, এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
প্রতিমা মণ্ডলের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে কলকাতাতেই রয়েছেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লিতে কোনও রাজনৈতিক বৈঠকে যোগ দেননি। তিনি জানান, জুন মাসের শুরুতে সংসদীয় কমিটির একটি নির্ধারিত বৈঠকে অংশ নিতে দিল্লি গিয়েছিলেন, কিন্তু বৈঠক শেষ হওয়ার পরই কলকাতায় ফিরে আসেন। তারপর আর রাজধানীতে যাননি।
শুধু অস্বীকারই নয়, যাঁরা তাঁর নাম বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে জড়াচ্ছেন, তাঁদের উদ্দেশে সরাসরি প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, যদি সত্যিই কোনও চিঠি থাকে এবং তাতে সাংসদদের স্বাক্ষর থাকে, তাহলে সেই নথি প্রকাশ্যে আনা হোক। এতে সাধারণ মানুষ নিজেরাই বুঝতে পারবেন তাঁর নাম সেখানে রয়েছে কি না।
একই সঙ্গে প্রতিমা মণ্ডল জানিয়েছেন, দলের কিছু সাংসদের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তাঁদের প্রস্তাবিত কর্মপন্থা বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। সেই কারণেই তিনি তাঁদের সঙ্গে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেননি।
তবে বিদ্রোহী শিবিরে না থাকলেও দলের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ব্যর্থতা নিয়ে তিনি আত্মসমালোচনার সুর শোনান। তাঁর মতে, তৃণমূলের ভিতরে কিছু ভুলত্রুটি ও সাংগঠনিক দুর্বলতা ছিল বলেই মানুষের সমর্থন পুরোপুরি পাওয়া যায়নি। সেই বাস্তবতাকে অস্বীকার করার কোনও সুযোগ নেই বলেও তিনি মনে করেন।
প্রতিমা মণ্ডল আরও জানান, দলের মধ্যে তৈরি হওয়া অস্বস্তিকর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার জন্য তিনি নিজেই সাংসদদের নিয়ে কলকাতায় একটি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কয়েকজন সাংসদের সঙ্গে ফোনে কথাও বলেন তিনি। তবে তাঁকে দিল্লিতে গিয়ে আলোচনায় যোগ দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও তিনি তাতে সম্মত হননি।
এদিকে তৃণমূলের অন্দরের এই সংকট ক্রমশ আরও জটিল আকার নিচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। প্রথমে বিধানসভায় দলের একাংশের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। পরে সেই অস্থিরতার প্রভাব সংসদীয় রাজনীতিতেও পড়তে দেখা যায়। দলের নির্দেশের বাইরে গিয়ে কিছু বিধায়ক ও সাংসদের অবস্থান ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা।
এই পরিস্থিতিতে প্রতিমা মণ্ডলের প্রকাশ্য অবস্থান স্পষ্ট করে দিল, অন্তত তিনি নিজেকে কোনও বিদ্রোহী শিবিরের অংশ হিসেবে দেখতে নারাজ। তবে দলের অন্দরে যে মতপার্থক্য এবং অসন্তোষের আলোচনা চলছে, তা অস্বীকারও করেননি তিনি। ফলে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।


Recent Comments