রাজ্যজুড়ে তোলপাড় করা তমন্না হত্যাকাণ্ডে অবশেষে মিলল বড়সড় সাফল্য। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) কাছে বিচারের দাবিতে সরব হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আরও দুই অভিযুক্তকে জালে তুলল পুলিশ। এই ঘটনায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে নিহত ছাত্রীর পরিবার।
গ্রেফতারের নেপথ্যে ঘটনাপ্রবাহ
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের নাম সাবির শেখ (Sabir Sheikh) এবং জিয়ারুল শেখ (Ziarul Sheikh)। দীর্ঘ দিন ধরেই তাঁরা তদন্তকারী আধিকারিকদের নজরদারিতে ছিলেন। তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা ক্রমাগত এলাকা পরিবর্তন করছিল এবং আত্মগোপন করে থাকায় তাদের ধরা সম্ভব হচ্ছিল না। প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত তাঁদের পাকড়াও করা হয়েছে।
জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তমন্নার পরিবার ন্যায়বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছিল। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না মেলায় তাঁরা শুভেন্দু অধিকারীর শরণাপন্ন হন। বিরোধী দলনেতা বিষয়টি নিয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় এবং পুলিশের ওপর চাপ বাড়ায়, তদন্তে নতুন করে গতি আসে। সেই তৎপরতার জেরেই ওই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
মা সাবিনার প্রতিক্রিয়া
মেয়ের খুনিদের গ্রেফতারের খবর পেয়ে আবেগে আপ্লুত মা সাবিনা খাতুন (Sabina Khatun)। তিনি বলেন, “আমরা অসহায় হয়ে পড়েছিলাম। শুভেন্দু অধিকারীর কাছে গিয়ে যখন বিচার চেয়েছিলাম, তখন ভেবেছিলাম হয়তো কিছুটা হলেও সুরাহা হবে। সেই প্রত্যাশাই পূরণ হলো। একই সঙ্গে আমি মুখ্যমন্ত্রীকেও (Chief Minister) ধন্যবাদ জানাই, কারণ তাঁর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে খুনিরা আজ আইনের আওতায় এল।”
তদন্তের পরবর্তী ধাপ
পুলিশ জানিয়েছে, সাবির এবং জিয়ারুলকে জেরা করে এই খুনের ঘটনার মূল কারণ এবং এর পেছনে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তমন্না খুনের ঘটনাটি শুধুমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, এর পেছনে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই গ্রেফতারির পর কিছুটা হলেও আশ্বস্ত বোধ করছেন এবং চাইছেন যে, দোষীরা যেন দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়।
পুরো ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের আদালতে পেশ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে।


Recent Comments