উত্তর চব্বিশ পরগনা (North 24 Parganas) জেলার মধ্যমগ্রাম (Madhyamgram) স্টেশনের অদূরে এক মর্মান্তিক ঘটনায় গতকাল রাতে থমকে গেল শিয়ালদহ-বনগাঁ (Sealdah-Bangaon) শাখার ট্রেন চলাচল। ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে এক মাঝবয়সী ব্যক্তির আত্মহত্যার জেরে দীর্ঘ সময় ব্যাহত হয় রেল পরিষেবা। এই ঘটনার ফলে চরম দুর্ভোগের শিকার হন বাড়ি ফেরা অসংখ্য নিত্যযাত্রী।
ঠিক কী ঘটেছিল?
স্থানীয় ও রেল সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, গতকাল রাত ৯টা ৫৫ মিনিট নাগাদ বারাসাত (Barasat) শাখার আপ লাইনের ৭ এবং ৮ নম্বর রেলগেটের মধ্যবর্তী এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি আচমকাই লাইনের ওপর চলে আসেন এবং দ্রুতগামী ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেন। ধাক্কা লাগার পর তাঁর দেহ ট্রেনের চাকায় এমনভাবে আটকে যায় যে ট্রেনটি আর এক ইঞ্চিও নড়াচড়া করতে পারেনি। ঘটনার ভয়াবহতা দেখে সেই সময় উপস্থিত যাত্রী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা শিউরে ওঠেন।
দীর্ঘক্ষণ স্তব্ধ ট্রেন চলাচল
ট্রেনটি ঘটনাস্থলেই দাঁড়িয়ে পড়ায় আপ লাইনে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার খবর পৌঁছাতেই রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং আরপিএফ (RPF) ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। দেহটি ট্রেনের চাকা থেকে উদ্ধার করার জন্য ব্যাপক বেগ পেতে হয় রেল কর্মীদের। রেল লাইনের ওপর দেহ আটকে থাকায় দীর্ঘ প্রায় আধ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে লাইনে ট্রেনের চাকা গড়ায়নি। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে এবং বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই চরম অনিশ্চয়তায় পড়েন।
শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে একজন বলেন, “হঠাৎই বিকট শব্দ শুনতে পাই। তারপর দেখি ট্রেনটি দাঁড়িয়ে পড়েছে। কী হয়েছে বুঝতে পেরে স্তম্ভিত হয়ে যাই। এমন ভয়াবহ দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না।” রেল পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে মৃত ব্যক্তির পরিচয় এখনো পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়নি। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এছাড়া তিনি কেন এমন চরম পথ বেছে নিলেন, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
নিত্যযাত্রীদের ভোগান্তি
বনগাঁ শাখা একটি অত্যন্ত ব্যস্ত রুট। রাতের শেষ দিককার ট্রেনগুলোতে ভিড় এমনিতেই বেশি থাকে। এমন সময়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাড়ি ফেরা মানুষেরা বিপাকে পড়েন। অনেকে দীর্ঘ সময় লাইনে আটকে থেকে শেষে বাধ্য হয়ে অটো বা অন্য কোনো রাস্তায় গন্তব্যের দিকে রওনা দেন। তবে দেরিতে হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য জোর তৎপরতা শুরু হয়। রেল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, লাইনে আটকে থাকা ট্রেনের বগি থেকে মৃতদেহ সরিয়ে লাইন পরিষ্কার করার পর ধীরে ধীরে ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে।


Recent Comments