কলকাতার (Kolkata) রাজনৈতিক মহলে রবিবার সকাল থেকেই তোলপাড়। জোড়াসাঁকো (Jorasanko) থানা এলাকার কলেজ স্ট্রিট (College Street) সংলগ্ন বাসভবনে তল্লাশি অভিযান চালাল পুলিশ। কলকাতা পুরসভার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল (TMC) কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমউদ্দিনের বাড়িতে সকাল থেকেই উপস্থিত হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। শুধু তাই নয়, তাঁর বাড়ির বাইরে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Forces)।রবিবার সকালের এই আকস্মিক অভিযানে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। বাড়ির চারপাশে বাহিনীর জওয়ানদের কড়া নজরদারি রয়েছে।
সূত্রের খবর, বাড়ির ভেতরে কাউন্সিলরকে জেরা করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। তবে ঠিক কী অভিযোগে বা কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত পুলিশের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।স্থানীয় সূত্রে খবর, কাউন্সিলর জসিমউদ্দিনের বিরুদ্ধে এলাকায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অনেক স্থানীয় বাসিন্দাই তাঁর নানা কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ।
উল্লেখ্য, শনিবার এই এলাকা থেকেই এক নাবালিকাকে হেনস্থার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই ব্যক্তি কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই কাউন্সিলরের বাড়িতে পুলিশের এই উপস্থিতি নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
অনেকে মনে করছেন, পকসো (POCSO) আইনের আওতায় থাকা কোনো মামলার সূত্র ধরেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতা পুরসভার একাধিক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে পুলিশের সক্রিয়তা দেখা গেছে। শনিবার রাতেই পাটুলি (Patuli) থেকে গ্রেফতার হয়েছেন কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এই নিয়ে গত কিছুদিনের মধ্যে কলকাতা পুরসভার মোট সাতজন তৃণমূল জনপ্রতিনিধি পুলিশের জালে ধরা পড়লেন। বাপ্পাদিত্যর গ্রেফতারির পর থানায় স্থানীয় বিজেপি (BJP) কর্মী-সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখান ।
টানা বেশ কয়েকজন কাউন্সিলরের গ্রেফতারি এবং এবার জসিমউদ্দিনের বাড়িতে পুলিশের হানা—সব মিলিয়ে শাসক দলের অন্দরেও অস্বস্তি বাড়ছে। এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে থমথমে। কাউন্সিলরের বাড়ির আশেপাশে স্থানীয় মানুষের ভিড় জমেছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করছে।
এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ জসিমউদ্দিনের বিষয়ে কী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক মহলের নজর এখন জোড়াসাঁকোর এই পরিস্থিতির দিকে।


Recent Comments