back to top
Wednesday, June 10, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeরাজ্য ও রাজনীতি‘নবান্ন-র নির্দেশে’ রবীন্দ্রভারতীর উপাচার্য পদ থেকে ইস্তফা সোনালির

‘নবান্ন-র নির্দেশে’ রবীন্দ্রভারতীর উপাচার্য পদ থেকে ইস্তফা সোনালির

অশোক সেনগুপ্ত

রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদ ত্যাগ করলেন ডঃ সোনালি চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল তথা রাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য আরএন রবির কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন তিনি। নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর, রাজ্য সরকারের ইঙ্গিত, বা পরোক্ষ নির্দেশে তিনি পদত্যাগ করেছেন। যদিও এর নির্দিষ্ট কারণ অজানা। বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের তরফে বা ডঃ সোনালি কোনও মন্তব্য করেননি।

গত ৯ মে, রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিনই বাংলায় বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ব্রিগেড থেকে সোজা জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলেন তিনি। সেদিনই শুভেন্দুবাবুর ঠিক পাশেই দেখা গিয়েছিল ডঃ সোনালিকে। এক মাস না পেরোতেই পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি।

উপাচার্য নিয়োগ সংক্রান্ত জট কাটাতে দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি উদয় উমেশ ললিতের নেতৃত্বাধীন উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গড়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। দীর্ঘ টালবাহানার পর গত ১ অগস্ট সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে রবীন্দ্র ভারতীর উপাচার্য পদে বসেছিলেন সোনালী।

২০২৩-এ ডঃ সোনালি রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে যোগ দিয়েছিলেন। ’২৪-এ রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে অধ্যাপক সোনালি চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম সুপারিশ করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু অনুমোদন দেননি তৎকালীন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তাঁর যুক্তি ছিল, সোনালি অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। তাই তাঁকে রবীন্দ্র ভারতীর উপাচার্য পদে নিয়োগ করা যাবে না।

রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘর্ষের জেরে দীর্ঘ নজির চলছিল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে। ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ করে। শীর্ষ আদালত নির্দিষ্ট পদ্ধতি এবং রূপরেখা বেঁধে দেয়। তিন শতাধিক আবেদন আসে। সেগুলো থেকে বাছাইপর্ব ও পর্যায়ক্রমে সাক্ষাৎকারের পর কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ হয়।

১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ সম্পন্ন হলেও জট রয়ে গিয়েছিল ১৭টিতে। এর মধ্যে সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজ্যের দেওয়া নামের তালিকায় দু’নম্বরে থাকা ব্যক্তির নামে অনুমোদন দিয়েছিলেন তৎকালীন রাজ্যপাল। আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে তিনি বেছে নেন তালিকায় তিন নম্বরে থাকা নামকে। সাধারণত রাজ্যের পাঠানো তালিকায় থাকা প্রথম নামটিতেই সিলমোহর দিয়ে থাকে রাজভবন।

আরো পড়ুন:  SIR: আদালতের নজরদারিতেই হবে এসআইআর নথি যাচাই

শীর্ষ আদালতে বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে উপাচার্য নিয়োগ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে চূড়ান্ত রায় আসে। গত ১ অগস্ট রবীন্দ্র ভারতীর উপাচার্যের দায়িত্ব নেন ডঃ সোনালী। একই সঙ্গে কোচবিহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসাবে যোগ দেন ডঃ সঞ্চারী মুখোপাধ্যায়।

প্রশ্ন উঠেছে, ডঃ সোনালি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ট বলে বর্ণিত, অবসরপ্রাপ্ত আমলা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী বলেই কি তাঁকে চাপের মধ্যে পড়তে হল? তবে, তাঁর পদত্যাগের এই খবর রাজ্যের শিক্ষামহলে সকলেই স্তম্ভিত।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments