অসম (Assam) -এ বাজতে শুরু করেছে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা। আগামী ৯ এপ্রিল এই রাজ্যে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত বিধানসভা নির্বাচন। শাসক দল বিজেপি (BJP) এবার তাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি একেবারে তুঙ্গে রেখেছে। বৃহস্পতিবার তারা আসন্ন নির্বাচনের জন্য তাদের প্রথম প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। এই প্রথম তালিকায় মোট ৮৮ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ১২৬ আসন বিশিষ্ট রাজ্য বিধানসভায় শাসক শিবির এবার মোট ৮৯টি আসনে একাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই রণনীতির অংশ হিসেবেই এই তালিকা প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের নজর স্বাভাবিকভাবেই ছিল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma) -এর দিকে। প্রথম তালিকা প্রকাশ হতেই দেখা গেল, তিনি তাঁর নিজের পুরনো দুর্গ জালুকবাড়ি (Jalukbari) থেকেই ফের একবার নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে চলেছেন। উল্লেখ্য, এই কেন্দ্রটি মুখ্যমন্ত্রীর জন্য অত্যন্ত পয়া এবং নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়। তিনি এই কেন্দ্র থেকে এর আগে টানা পাঁচবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। এবার তিনি ষষ্ঠবারের জন্য এখান থেকে মানুষের রায় চাইতে চলেছেন। তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং উন্নয়নমূলক কাজ জালুকবাড়ির মানুষের কাছে তাঁকে এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। নিউস্কোপ বাংলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের কেন্দ্র থেকে তাঁর পুনরায় জয়লাভ করাটা শুধুই সময়ের অপেক্ষা।
তবে এই প্রার্থী তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক লুকিয়ে রয়েছে বিরোধী দল কংগ্রেস (Congress) থেকে আসা নেতাদের অন্তর্ভুক্তিতে। নির্বাচনের ঠিক আগে রাজ্যের বিরোধী শিবিরে এক বিরাট ধস নামে। কংগ্রেসের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি ভূপেন বোরা (Bhupen Borah) এবং লোকসভার সাংসদ প্রদ্যুৎ বরদলৈ (Pradyut Bordoloi) দল ছেড়ে শাসক শিবিরে যোগদান করেন। এই দলবদল রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। অনেকেই কৌতূহলী ছিলেন যে, নবাগতদের শাসক দল কীভাবে জায়গা করে দেয়। প্রকাশিত প্রার্থী তালিকায় দেখা গেল, এই দুই বর্ষীয়ান নেতাকেই যথাযোগ্য সম্মান দিয়ে বিধানসভার টিকিট দেওয়া হয়েছে। প্রদ্যুৎ বরদলৈকে রাজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র দিসপুর (Dispur) থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। দিসপুর রাজ্যের প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র হওয়ায় এই আসনের রাজনৈতিক তাৎপর্য অপরিসীম।
অন্যদিকে ভূপেন বোরাকেও এই তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই নেতারা শাসক দলের হাত শক্ত করবে বলেই মনে করছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। শতাব্দীপ্রাচীন বিরোধী দলের এই প্রভাবশালী নেতারা নির্বাচনের ঠিক আগে দল পরিবর্তন করায় তারা বেশ কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গিয়েছে। শীর্ষ নেতৃত্ব হারানোর ফলে তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতাও প্রকাশ্যে এসেছে।
অসমের রাজনীতিতে জাতিগত সমীকরণ এবং স্থানীয় উন্নয়নমূলক ইস্যুগুলি সব সময়ই বড় ভূমিকা পালন করে। শাসক দল তাদের নির্বাচনী প্রচারে রাজ্যের সার্বিক পরিকাঠামোগত বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের ওপর জোর দিতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর প্রচারে এই বিষয়গুলিকে হাতিয়ার করেই ময়দানে নামবেন। বিশেষ করে জালুকবাড়ি এলাকার মানুষ বিগত বছরগুলিতে যে উন্নয়নের সাক্ষী হয়েছেন, তাকেই তিনি গোটা রাজ্যের মডেল হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন।
অন্যদিকে, দিসপুর কেন্দ্রে প্রদ্যুৎ বরদলৈয়ের লড়াইটাও অত্যন্ত আকর্ষণীয় হতে চলেছে। কারণ, তিনি লোকসভার সাংসদ ছিলেন এবং এবার তাঁকে রাজ্য রাজনীতিতে সরাসরি বিধানসভা নির্বাচনের মাধ্যমে নিজের জায়গা পাকা করতে হবে। তাঁর মতো একজন অভিজ্ঞ নেতাকে দিসপুর থেকে প্রার্থী করার পিছনে শাসক দলের একটি সুনির্দিষ্ট কৌশল রয়েছে। শহুরে ভোটারদের মন জয় করতে তাঁর পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিকে কাজে লাগাতে চাইছে দল।


Recent Comments