জেল বা কারাগারকে বলা হয় সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা। কিন্তু সেখানেই যদি ঘটে যায় হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ড? তাও আবার যে সে লোক নয়, খোদ রাম মন্দির (Ram Mandir) ওড়ানোর ছক কষা এক দুধর্ষ জঙ্গির মৃত্যু হলো জেলের ভেতরেই! হরিয়ানা (Haryana)-র ফরিদাবাদ (Faridabad)-এর নিমুকা জেলে (Neemka Jail) সোমবার বিকেলে ঘটে গেল এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। পুলিশ (Police) সূত্রে খবর, অন্য বন্দিরাই পিটিয়ে এবং ধারালো চামচ দিয়ে কুপিয়ে তাকে শেষ করে দিয়েছে।
কে এই নিহত বন্দি? মৃতের নাম নিয়ে পুলিশ সরাসরি মুখ না খুললেও, জেল সূত্রে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তি অযোধ্যা (Ayodhya)-য় রাম মন্দিরে হামলার ষড়যন্ত্র বা রেকি (Recce) করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিল। সে কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই (Lawrence Bishnoi) গ্যাং বা অন্য কোনো জঙ্গি মডিউলের স্লিপার সেল (Sleeper Cell) হিসেবে কাজ করত বলে সন্দেহ ছিল গোয়েন্দাদের। তার মৃত্যুতে বড়সড় তথ্যের উৎস বা Source হারিয়ে গেল কি না, তা নিয়ে চিন্তায় তদন্তকারীরা।
জেলে ঠিক কী ঘটেছিল? প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, জেলের ভেতরে তখন বন্দিদের টিফিন টাইম চলছিল। হঠাৎই কয়েকজন কয়েদি ওই জঙ্গির ওপর চড়াও হয়। তাদের হাতে ছিল জেলের থালা বা চামচ ঘষে বানানো ধারালো অস্ত্র (Improvised Weapon)। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে এলোপাথাড়ি কোপানো হয়। জেল রক্ষীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত (Dead) বলে ঘোষণা করেন।
গ্যাং ওয়ার নাকি অন্য কিছু? প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ মনে করছে, এটি কোনো সাধারণ মারামারি নয়। এর পেছনে বড় কোনো গ্যাং ওয়ার (Gang War) বা পূর্বপরিকল্পনা থাকতে পারে। জেলের ভেতরে দেশবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার কারণেই কি অন্য কয়েদিরা তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল? নাকি তাকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য সুপারি দেওয়া হয়েছিল জেলের ভেতরেই? এই প্রশ্নগুলোই এখন ভাবাচ্ছে পুলিশকে।
নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন: তিহার (Tihar) জেলের ঘটনার ছায়া এবার হরিয়ানাতেও। হাই-সিকিউরিটি সেলে বা তার আশেপাশে কীভাবে বন্দিরা অস্ত্র বানাল বা লুকাল? মেটাল ডিটেক্টর (Metal Detector) বা সিসিটিভি (CCTV) কি কাজ করছিল না? এই ঘটনায় জেল সুপারিন্টেন্ডেন্ট এবং নিরাপত্তারক্ষীদের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
অযোধ্যা হামলার ব্লু-প্রিন্ট যার মাথায় ছিল, তার এমন পরিণতি কি শুধুই কাকতালীয়, নাকি এর পেছনে গভীর কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে? উত্তর খুঁজছে হরিয়ানা পুলিশ।
