বাংলাদেশের (Bangladesh) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের (13th General Election) আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। তার আগেই বড়সড় বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন (Mobile Phone) নিষিদ্ধ করার নির্দেশ ঘিরে তুমুল সমালোচনা শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে। শেষমেশ চাপের মুখে পড়ে সেই নির্দেশিকা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হলো কমিশন। নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভোটাররা এখন মোবাইল ফোন নিয়েই কেন্দ্রে যেতে পারবেন। তবে মানতে হবে কিছু কড়া শর্ত।
আগের নির্দেশ ও বিতর্ক: রবিবার নির্বাচন কমিশন এক নির্দেশিকায় জানিয়েছিল, ভোটকেন্দ্রের ৩৬৫ মিটার বা ৪০০ গজের মধ্যে ভোটাররা মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। এই নির্দেশের পরই সরব হয় বিএনপি (BNP), জামায়াতে ইসলামী (Jamaat-e-Islami) এবং এনসিপি (NCP)-র মতো দলগুলো। বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী (Ruhul Kabir Rizvi) এটিকে অযৌক্তিক বলে দাবি করেন। অন্যদিকে, এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম (Nahid Islam) হুঁশিয়ারি দেন, নির্দেশ না বদলালে কমিশন ঘেরাও করা হবে। জামায়াত নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এর ফলে ভোটারদের মনে ভয় কাজ করবে।
কমিশনের ডিগবাজি: রাজনৈতিক দলগুলোর প্রবল চাপের মুখে সোমবার রাতে তড়িঘড়ি সাংবাদিক বৈঠক ডাকেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ (Akhtar Ahmed)। তিনি স্বীকার করে নেন যে, আগের নির্দেশিকায় কিছু ‘ভুল বোঝাবুঝি’ (Misunderstanding) তৈরি হয়েছিল। সচিব স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আমরা ভুল শুধরে নিচ্ছি। ভোটার, প্রার্থী এবং পোলিং এজেন্টরা (Polling Agents) মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখতে পারবেন। তবে গোপন কক্ষে (Secret Booth) বা ভোট দেওয়ার সময় কোনোভাবেই ছবি তোলা বা ভিডিও করা যাবে না।”
কেন এই পরিবর্তন? বিশেষজ্ঞদের মতে, মোবাইল ছাড়া ভোটারদের কেন্দ্রে আসা প্রায় অসম্ভব। তাছাড়া কারচুপির প্রমাণ রাখতে বা জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য মোবাইল অপরিহার্য। কমিশন বুঝতে পেরেছে, এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা বাস্তবে সম্ভব নয় এবং তা নির্বাচনের স্বচ্ছতা (Transparency) নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। তাই শেষ মুহূর্তে এই সিদ্ধান্ত বদল।
বৃহস্পতিবার, অর্থাৎ ১৩ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ভোটগ্রহণ। তার আগে কমিশনের এই পিছু হটা বিরোধীদের নৈতিক জয় হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল। তবে গোপন কক্ষে ছবি তোলা রুখতে প্রিসাইডিং অফিসাররা (Presiding Officers) কতটা কড়া হন, সেটাই এখন দেখার।
