Sushmita Sengupta: এফসিআরএ বিল নিয়ে কেন্দ্র ও বিরোধীদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই সমস্যা চলছে। এই বিল নিয়ে বিরোধীরা বারবার আপত্তি জানাচ্ছে। এবার সেই পরিস্থিতিতে বিলটি যৌথ সংসদীয় কমিটি বা জেপিসিতে পাঠাতে রাজি হয়েছে কেন্দ্র।
এফসিআরএ-র পুরো নাম হল বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন।বিদেশ থেকে কোনও সংস্থা বা সংগঠন যে টাকা পায়, সেই টাকা কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা এই আইনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। নতুন বিলে এই আইনে বেশ কিছু পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে।
তবে শুরু থেকেই এই বিলের বিরোধিতা করছে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, বাম দল এবং ডিএমকে-সহ বেশ কয়েকটি বিরোধী দল। তাদের দাবি, এই বিল এখনই পাশ করা উচিত নয়। আগে বিলটি নিয়ে ভালো করে আলোচনা করা দরকার।
বিলের কিছু নিয়ম নিয়ে কয়েকটি খ্রিস্টান সংগঠনও চিন্তা প্রকাশ করেছে। তাদের মূল আপত্তি বিদেশি অনুদানের টাকায় তৈরি সম্পত্তি নিয়ে নতুন নিয়মকে ঘিরে। তাদের আশঙ্কা, কোনও সংস্থার বিদেশি অনুদান নেওয়ার অনুমতি বন্ধ হয়ে গেলে সেই সংস্থার কিছু সম্পত্তি নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
এই বিষয় নিয়ে কিছু খ্রিস্টান সংগঠনের প্রতিনিধি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা বিলটি প্রত্যাহার করার দাবি জানান। পাশাপাশি বিলটি জেপিসিতে পাঠানোর কথাও বলেন।
মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা ও এই বিল নিয়ে রাজ্যের মানুষের চিন্তার কথা কেন্দ্রকে জানিয়েছেন।
কেন্দ্রের বক্তব্য অবশ্য আলাদা। সরকারের দাবি, এই বিল কোনও নির্দিষ্ট ধর্ম বা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়। বিদেশি অনুদানের টাকা এবং সেই টাকা দিয়ে তৈরি সম্পত্তি নিয়ে নিয়ম আরও পরিষ্কার করতেই এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
এখন বিলটি জেপিসিতে গেলে বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা করা যাবে। বিভিন্ন দলের সাংসদরা বিলের নিয়মগুলি খতিয়ে দেখবেন। প্রয়োজনে বিভিন্ন সংগঠনের মতামতও নেওয়া হতে পারে। এরপর জেপিসি তাদের রিপোর্ট দেবে।
তবে বিরোধীরা এখনও পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। তাদের মধ্যে অনেকেই এখনও বিলটি প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে। কিন্তু জেপিসিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হলে বিল নিয়ে আলোচনার রাস্তা কিছুটা সহজ হতে পারে।
সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন ১৩ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা। তার আগে এই বিল নিয়ে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে কোনও সমাধান হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

Recent Comments