ভারত (India)-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)-এ রাজনৈতিক উত্তাপ যেন কমার নামই নিচ্ছে না। বিশেষ করে যখন শহরে হাই-প্রোফাইল কোনও নেতার আগমন ঘটে, তখন পরিস্থিতি আরও সরগরম হয়ে ওঠে। শনিবার ঠিক তেমনই এক দৃশ্যের সাক্ষী থাকল কলকাতা (Kolkata)। এদিন দুপুরে শহরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)-র মেগা সভা ছিল। কিন্তু সেই সভা শুরু হওয়ার আগেই রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নিল সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ (Central Avenue) এবং সংলগ্ন গিরিশ পার্ক (Girish Park) এলাকা। অভিযোগের তির সরাসরি বিজেপি (BJP)-র দিকে। রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা (Sashi Panja)-র বাড়িতে ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল বিরোধী শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। নিউস্কোপ বাংলার নিজস্ব প্রতিনিধি হিসেবে এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরব ঠিক কী ঘটেছিল এদিন।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার সকালের দিকে। ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রীর সভায় যোগ দেওয়ার জন্য রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গেরুয়া শিবিরের কর্মী ও সমর্থকরা বাসে করে শহরে আসছিলেন। স্থানীয় সূত্রের খবর, গিরিশ পার্ক এলাকায় মন্ত্রী শশীর বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় বেশ কয়েকজন কর্মী বাস থেকে নেমে পড়েন। এরপর তারা মন্ত্রীর বাড়ির সামনে লাগানো ‘বয়কট বিজেপি’ নামক একটি ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। এই ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করেই মূলত বচসার শুরু হয়। এরপর সেই তর্কাতর্কি নিমেষের মধ্যে ভয়াবহ আকার ধারণ করে। অভিযোগ, মন্ত্রীর বাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ইট ছুড়তে শুরু করেন গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা। ইটের ঘায়ে বাড়ির জানালার কাচ সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। এমনকী, মন্ত্রী নিজেও এই হামলায় সামান্য আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে।
এই নজিরবিহীন হামলার পর স্বভাবতই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের হেভিওয়েট নেত্রী শশী। তিনি স্পষ্টতই জানিয়েছেন যে, বাইরের লোক এনে এই ধরনের গুণ্ডামি করছে বিরোধীরা। সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “ওরা বহিরাগতদের নিয়ে এসে আমার বাড়ির সামনে প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে পালিয়ে গিয়েছে। যদি সাহস থাকে, তবে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক মোকাবিলা করুক। ওরা এতই কাপুরুষ যে মেন রাস্তার উপর থেকে আমার বাড়ির ঢোকার মুখে ভাঙচুর চালিয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, তাকে প্রাণে মেরে ফেলার চক্রান্ত করা হচ্ছে। ইটের টুকরো তার গায়েও লেগেছে বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, এই গোটা ঘটনায় গেরুয়া শিবিরের তরফে পালটা দাবি করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ে মন্ত্রীর বাড়ির সামনে ব্যানার ছেঁড়ার পর তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)-এর কর্মীরাই তাদের বাস থামিয়ে প্রথমে হামলা চালায়। আর তা থেকেই এই তুমুল অশান্তির সূত্রপাত। দু’পক্ষের মধ্যে কার্যত ধুন্ধুমার সংঘর্ষ বেধে যায় প্রকাশ্য রাস্তায়। খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামলাতে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় বউবাজার (Bowbazar) থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। কিন্তু উন্মত্ত দুই রাজনৈতিক দলের জনতাকে থামাতে গিয়ে পুলিশের কাজটা মোটেও সহজ ছিল না। উলটে সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে বউবাজার থানার ওসি নিজেও আহত হন বলে জানা গিয়েছে।
এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন মারাত্মক জখম হয়েছেন। রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা যায় উত্তর কলকাতার জেলা গেরুয়া শিবিরের সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ (Tamoghna Ghosh)-কেও। মোদির সভার আগেই এই অনভিপ্রেত রাজনৈতিক হানাহানিতে মধ্য কলকাতার পরিস্থিতি একেবারে থমথমে হয়ে ওঠে। আগামী দিনে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা যে আরও জোরালো হবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

Recent Comments