স্থলে জলে বনতলে... নিউজস্কোপ-এর নিবেদন
ভারতীয় উপমহাদেশে দোল ও হোলি শুধু একটি উৎসব নয়—এ এক আবেগ, মিলন আর রঙের উচ্ছ্বাস। এই সময় বসন্তের রঙিন পরশ মানুষের হৃদয় রাঙিয়ে দেয়। প্রকৃতি হয়ে ওঠে বর্ণময়। এই আবেগকে সবচেয়ে জীবন্তভাবে ধারণ করেছে চলচ্চিত্র। সাদা পর্দায় রঙের ছটা, ঢোলের তালে নাচ, প্রেম-দ্বন্দ্ব-বন্ধুত্ব—সব মিলিয়ে হোলির গান হয়ে উঠেছে সিনেমার অন্যতম আকর্ষণ।
হিন্দি ছবিতে হোলির রঙিন ঐতিহ্য
বলিউডে হোলির গান মানেই দর্শকদের জন্য এক বিশেষ উপহার। শোলে সিনেমার ‘হোলি কে দিন’ গানটি আজও উৎসবের আবহ তৈরি করে। বন্ধুত্ব আর গ্রাম্য উচ্ছ্বাসে ভরপুর এই গান সিনেমার আবেগকে আরও গভীর করেছে।
অন্যদিকে, সিলসিলা-ছবির ‘রঙ্গ বরষে’ যেন হোলির অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী। অমিতাভ বচ্চনের কণ্ঠে ও উপস্থিতিতে গানটি পেয়েছে অনন্য মাত্রা—প্রেম, স্মৃতি আর অপ্রকাশিত আবেগের মিশেল।
তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে উপস্থাপনাও। ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানির ‘বলম পিচকারি’ তরুণ প্রজন্মের কাছে হোলিকে নতুন ছন্দে ফিরিয়ে এনেছে—বন্ধুত্ব, মজা আর মুক্ত আনন্দের প্রতীক রূপে।
বাংলা চলচ্চিত্রে দোলের সুর
বাংলা সিনেমাতেও দোলের আবহ বহুবার ধরা পড়েছে। রবীন্দ্রসঙ্গীত ও বসন্তের গান বরাবরই দোলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কবিগুরুর ‘ওরে গৃহবাসী, খোল দ্বার খোল’ আজও দোলের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এই গানও চলচ্চিত্রে বহুল ব্যবহৃত হয়ে বসন্ত-দোলের আবেশকে গভীর করেছে। পাশাপাশি কালজয়ী ছবি ‘দাদার কীর্তি’তে দোলের যে অসাধারণ পরিবেশ উপস্থাপিত হয়েছে, তা আপামর বাঙালির স্মৃতিকোঠায় আজও অমলিন। শান্তিনিকেতনের বসন্তোৎসবের আবহও একাধিক ছবিতে রঙিন দৃশ্যায়নে তুলে ধরা হয়েছে।
হোলির গান: নাটকীয়তার অনন্য মাধ্যম
চলচ্চিত্রে হোলির গান শুধু উৎসব দেখানোর জন্য নয়, গল্পে মোড় ঘোরানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। অনেক সময় এই গানের মধ্যেই প্রকাশ পায় লুকোনো প্রেম, তীব্র বিরোধ বা সম্পর্কের টানাপোড়েন। রঙের আড়ালে চরিত্ররা নিজেদের আসল অনুভূতি প্রকাশ করে—যা সাধারণ দৃশ্যে দেখানো একপ্রকার অসম্ভব বলা যেতেই পারে।
রঙের ভাষায় সংস্কৃতির বন্ধন
হোলির গান ভারতীয় সংস্কৃতির বহুত্ব ও ঐক্যের প্রতীক। ধর্ম, ভাষা, প্রজন্মের ভেদাভেদ ভুলে সবাই একসঙ্গে গেয়ে ওঠে—‘রঙ্গ বরষে’ বা “বলম পিচকারি’। চলচ্চিত্র এই সমবেত আনন্দকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, দোল ও হোলির গান ভারতীয় চলচ্চিত্রে এক অনন্য অধ্যায়। রঙের ছটা, সুরের মাদকতা আর আবেগের বহিঃপ্রকাশ—সব মিলিয়ে এই গানগুলো শুধু উৎসবের নয়, আবহমান কাল ধরে স্মৃতিরও অংশ হয়ে রয়ে গেছে।

