অশোক সেনগুপ্ত
সামনেই কিছু রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে কপালে কিছুটা ভাঁজ রয়েছে নির্বাচন কমিশনের— ভোটের শতাংশ ভালো হবে তো? চিন্তার একটা বড় কারণ এসআইআর। বিষয়টি নিয়ে এ রাজ্যে সাড়ে চার মাসের ওপর যে ডামাডোল গেল, যার জটিল প্রতিক্রিয়া এখনও অব্যাহত, তার প্রভাব কিভাবে কতটা পড়ে, চিন্তার কারণ সেটাই। তার মোকাবিলায় শুরু হয়েছে পথ খোঁজা।
তার জন্য ভোটের সদর্থক প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছে কমিশনও। বৃহস্পতিবার রাতে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। তাতে ছিলেন অতিরিক্ত সিইও অরিন্দম নিয়োগী, দিল্লির পাঠানো দুই আধিকারিক অবর-সচিব বিভোর আগরওয়াল ও প্রধান সচিব বি সি পাত্র, পশ্চিমবঙ্গের উপ সিইও সুব্রত পাল, বিভাগীয় আধিকারিক জয়িতা দাস সরকার প্রমুখ। পরে এতে যোগ দেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী অফিসার (সিইও) মনোজ আগরওয়াল
এসআইআর-এর অন্যতম নেপথ্যনায়ক এবং নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ডঃ সুব্রত গুপ্ত।
গণতান্ত্রিক পরিকঠামোয় সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোটদাতার রায় একটা বড় বিচার্য বিষয়। ভোটের প্রচারে ঘাটতি না থাকা সত্ত্বেও ২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটে যত ভোট পড়েছিল, ২০২১-এ পড়ে তার প্রায়
১.৩১% কম ভোট। সার্বিক হিসেবটি দাঁড়ায়
৮৩.০২%। ২০১৯-এ ভারতে লোকসভা নির্বাচনে যত ভোট পড়েছিল, ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে তা আরও প্রায় ১.৩০% কমে যায়। ’২৪-এ ৫৪৩ টি লোকসভা কেন্দ্রে হিসেবটা ছিল ৬৬.১০%।
বৈঠকে পাওয়ার পয়েন্ট প্রোজেকশনের মাধ্যমে ভারত সরকার-স্বীকৃত একটি সংস্থার আধিকারিক অভিনয় চৌহান দেখান, পরিকল্পিতভাবে সামাজিক মাধ্যমের কোন কোন ক্ষেত্রে, কিভাবে বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনার মাধ্যমে কমিশন ভোটের ইতিবাচক প্রচার করতে পারে। প্রথাগত বেলুন, টি শার্ট, পথনাটিকা প্রভৃতির উদাহরণও দেন
অভিনয়বাবু। কীভাবে বিভিন্ন মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক জনমুখী প্রকল্পের প্রচার হয়েছে, সেগুলোও দেখান অভিনয়বাবু। ঠিক হয়েছে, সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ কমিউনিকেশনের সহায়তায় রূপায়িত হবে নির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা।
যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভোটের প্রচারের জন্য ২০০৯ সালে চালু হয় পদ্ধতিগত ভোটার শিক্ষা এবং নির্বাচনী অংশগ্রহণ (Systematic Voters’ Education and Electoral Participation, সংক্ষেপে SVEEP)। কমিশন-নির্ধারিত সেই সব পথের পাশাপাশি
পশ্চিমবঙ্গে ভোটের প্রচারে আরও জোর দিতে আগ্রহী কমিশন।


Recent Comments