অশোক সেনগুপ্ত
ভোটের প্রচারে আদর্শ আচরণবিধি মানাতে পশ্চিমবঙ্গে ‘সহযোগ’ পোর্টালের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের দিল্লির কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্সে এ কথা জানান পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগের কর্মকর্তারা। দিল্লির কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ দিন পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও তামিলনাডু, কেরল, অসম ও পুডুচেরির পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগের আধিকারিকরা এই ভিডিয়ো আলোচনায় অংশ নেন।
পশ্চিমবঙ্গের সাইবার ক্রাইম বিভাগের আনন্দ কুমার এবং অশোক প্রসাদ ইসি-র দিল্লির আধিকারিকদের বলেন, এসপি বিভিন্ন থানায় ও ওসি পর্যায়ের অফিসারদের ‘সহযোগ’ পোর্টালের কার্যকারিতার ধারণা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। জেলার পুলিশ অফিসাররাও বিষয়টি জানেন। আদর্শ আচরণবিধি চালু হওয়ার পর গত ৯ মার্চ সাইবার ক্রাইম বিভাগে মোট অভিযোগ নথিবদ্ধ হয়েছে ১,৯২৬।
এর মধ্যে নির্বাচন-বিষয়ক অভিযোগ প্রায় ৩০০। জিডি, এফআইআর এবং আদালতের নির্দেশের ভিত্তিতে পাওয়া এই সব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন খাতের মধ্যে ইউটিউবের অভিযোগের কিনারা তুলনায় কম হয়েছে। তবে, ফেসবুক, টুইটার প্রভৃতি ধরলে সব মিলিয়ে কিনারা, বা সাফল্যের হার ৭৩ শতাংশ।
নির্বাচন কমিশনের তরফে এই আলোচনায় ছিলেন সিনিয়র ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার মণীশ গর্গ, জ্ঞানেশ ভারতী, পবন কুমার শর্মা প্রমুখ। একাধিক পদস্থ সহকর্মীকে নিয়ে ভিডিয়ো আলোচনায় অংশ নেন তামিলনাডু ও অসমের মুখ্য নির্বাচনী অফিসার (সিইও) প্রমুখ। পশ্চিমবঙ্গে সিইও অফিসে এই আলোচনা শুনতে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সিইও অরিন্দম নিয়োগী, উপ (ডেপুটি) সিইও সুব্রত পাল প্রমুখ।
আলোচনায় ভোটমুখী রাজ্যের মূলত পুলিশের নোডাল আধিকারিকরা সামাজিক মাধ্যমের বর্তমান আইনি পরিকাঠামোয় কীধরণের পদক্ষেপ করা হচ্ছে, তা জানান কমিশনের দিল্লির আধিকারিকদের। প্রথম পর্বে বিহার নির্বাচনে সামাজিক মাধ্যমে নজরদারি এবং আইনি রাশ ধরে রাখতে, আইনের অপব্যবহার রুখতে কী ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার বিশদ ব্যখ্যা করেন বিহারের স্টেট পুলিশ নোডাল অফিসার (এসপিএনও) মানবজিৎ সিং ধিলোঁ।
তিনি জানান, সিন্থেটিক জেনারেটেড ইনফরমেশন (এসজিআই) একটা বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। বিহারে আচরণবিধি লাগু ছিল ৪৫ দিন। সেই সময়কালে নির্বাচনী অভিযোগ এসেছে ২২৫টি। এর প্রতিটির সঙ্গে ৮-১০টি করে ইউআরএল যুক্ত ছিল (ইউনিফর্ম সার্ভিস লোকেটর)। তদন্তের স্বার্থে এই ইউআরএল-এর আবশ্যিকতা আছে। আগে অভিযোগ আসার ৩৬ ঘন্টার মধ্যে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ ছিল। আইনি পরিমার্জনের পর সেই সময়সীমা নামিয়ে আনা হয়েছে ৩ ঘন্টায়। প্যারোডি, , এআই, ডিপফেক-সহ বিভিন্নভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের চেষ্টা হয়েছে বলে তিনি জানান।
মানবজিৎ সিং ধিলোঁর অভিজ্ঞতায় এবং বিভিন্ন রাজ্যে সামাজিক মাধ্যমের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সামগ্রিক সতর্কতা নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ভোটমুখী রাজ্যগুলোর সিইও দফতর ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকরা।


Recent Comments