বাংলা চলচ্চিত্রের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মিঠু মুখোপাধ্যায় আর নেই। রবিবার রাতে মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। গত প্রায় এক বছর ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন অভিনেত্রী।
দীর্ঘদিন ধরেই মুম্বইয়ে বসবাস করছিলেন মিঠু মুখোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, দক্ষিণ কলকাতার নিজের বাড়িও তিনি বিক্রি করে দিয়েছিলেন। গত এক বছর ধরে মুম্বইতেই চলছিল তাঁর চিকিৎসা। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে আর সুস্থ করে তোলা সম্ভব হয়নি।
বাংলা চলচ্চিত্রে মিঠু মুখোপাধ্যায়ের অভিনয়জীবন খুব দীর্ঘ না হলেও, একাধিক উল্লেখযোগ্য চরিত্রের মাধ্যমে তিনি দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন। ১৯৭১ সালে চিত্ত বসুর ‘শেষ পর্ব’ ছবির মাধ্যমে বড়পর্দায় তাঁর অভিষেক। প্রথম ছবিতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন সমিত ভঞ্জ।
এর পর ১৯৭৩ সালে ‘মর্জিনা আবদুল্লা’ ছবিতে অভিনয়ের সুবাদে পরিচিতি বাড়ে মিঠুর। আলিবাবার পরিচারিকা মর্জিনার চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের নজর কাড়ে। ছবিতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন দেবরাজ রায়। এই ছবির সাফল্যের পর বাংলা সিনেমায় তাঁর পরিচিতি আরও মজবুত হয়।
এর পর ‘নিশিকন্যা’ ছবিতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। তবে ১৯৭৪ সালের ‘মৌচাক’ ছবিই তাঁকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়। অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় এই ছবিতে নীপা চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মিঠু। রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে তাঁর জুটি দর্শকদের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয় হয়েছিল।
‘মৌচাক’-এর পর ফের রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ ছবিতে জুটি বাঁধেন তিনি। ১৯৭৫ সালের এই ছবিটিও তাঁর অভিনয়জীবনের উল্লেখযোগ্য কাজগুলির মধ্যে অন্যতম। পাশাপাশি ‘কবি’, ‘চাঁদের কাছাকাছি’ এবং ‘হোটেল স্নো ফক্স’-এর মতো ছবিতেও অভিনয় করেন তিনি।
বাংলা ছবির পাশাপাশি হিন্দি এবং ওড়িয়া ছবিতেও কাজ করেছিলেন মিঠু মুখোপাধ্যায়। ১৯৭৬ সালে দুলাল গুহ পরিচালিত ‘খান দোস্ত’ ছবির মাধ্যমে হিন্দি সিনেমায় তাঁর অভিষেক হয়। শত্রুঘ্ন সিন্হার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে বাসু চট্টোপাধ্যায়ের ‘সফেদ ঝুট’, ‘দিল্লাগি’ এবং ‘দো লড়কে দোনো কড়কে’-র মতো ছবিতেও দেখা যায় তাঁকে।
১৯৭৭ সালের ‘প্রতিমা’ ছবিতেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মিঠু। সেখানে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম স্ত্রীর ভূমিকায় দেখা যায় তাঁকে। তাঁর অভিনয়জীবনে উত্তমকুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, রঞ্জিত মল্লিক, দেবরাজ রায়, শত্রুঘ্ন সিন্হা, রাজ কপূর, বিনোদ মেহরা, নবীন নিশ্চল, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, রবি ঘোষ-সহ বহু বিশিষ্ট শিল্পীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল তাঁর।
প্রায় দুই দশকেরও কম সময়ের অভিনয়জীবনেই একাধিক স্মরণীয় চরিত্র উপহার দিয়েছিলেন মিঠু মুখোপাধ্যায়। বহু বছর আগে তিনি অভিনয় থেকে সরে গেলেও ‘মৌচাক’-এর নীপা কিংবা ‘মর্জিনা আবদুল্লা’-র মর্জিনার মতো চরিত্রের মাধ্যমে দর্শকের স্মৃতিতে থেকে গিয়েছেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্রের একটি পরিচিত অধ্যায়ের অবসান হল।


Recent Comments