দুর্গাপুজোর প্রস্তুতির মাঝেই ফের বৃষ্টির ভ্রুকুটি। বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরের কাছে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে মঙ্গলবার থেকে শনিবার পর্যন্ত রাজ্যের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে উপকূলবর্তী এবং পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হতে পারে। নিচু এলাকাগুলিতে নতুন করে জল জমার আশঙ্কাও রয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সোমবারই নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। মঙ্গলবার তা অতি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার সকালে নিম্নচাপটি অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে।
মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবারও বৃষ্টির দাপট বজায় থাকবে। ওই দিন দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও পুরুলিয়ায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, দার্জিলিং এবং জলপাইগুড়িতেও বৃষ্টি হতে পারে।
বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। একইসঙ্গে ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, দার্জিলিং এবং জলপাইগুড়িতে বৃষ্টি চলতে পারে।
শুক্রবারও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম এবং পশ্চিম বর্ধমানে বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরবঙ্গেও পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক নয়। দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, উত্তর দিনাজপুর এবং সিকিমে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। জলপাইগুড়িতে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
শনিবারও দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং সিকিমে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা ও হাওড়ায় মূলত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।
বৃষ্টির পাশাপাশি উপকূলবর্তী এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। সেখানে ঘণ্টায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
এদিকে, বাংলার পাশাপাশি ওড়িশার পুরীতেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে সেখানে বৃষ্টি বাড়তে পারে। বুধবার পুরীতে চরম ভারী বৃষ্টির জন্য লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বুধ ও বৃহস্পতিবার প্রবল বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। শুক্রবার থেকে পুরীতে বৃষ্টির পরিমাণ কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে আপাতত ঘূর্ণিঝড়ের কোনও পূর্বাভাস দেয়নি মৌসম ভবন। নিম্নচাপের গতিবিধি এবং শক্তি বৃদ্ধির উপরই আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়া অনেকটাই নির্ভর করবে।


Recent Comments