back to top
Saturday, October 24, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
HomeWeather Reportবঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের চোখরাঙানি! সোমবারই তৈরি হতে পারে ঘূর্ণিঝড়, বুধবার থেকে দুর্যোগের আশঙ্কা...

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের চোখরাঙানি! সোমবারই তৈরি হতে পারে ঘূর্ণিঝড়, বুধবার থেকে দুর্যোগের আশঙ্কা বাংলায়

দুর্গাপুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সমুদ্রের উপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। এর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বিশেষ করে আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময় থেকে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় বড়সড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫.৮ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত ঘূর্ণাবর্তও রয়েছে ওই অঞ্চলে। অনুকূল পরিস্থিতি বজায় থাকলে শনিবার নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হবে। রবিবার তা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর সোমবার সকালের মধ্যে বঙ্গোপসাগরেই ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়টি শক্তি বাড়িয়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, এর সম্ভাব্য অভিমুখ উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ, শক্তি এবং স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সম্ভাব্য স্থান সম্পর্কে পরবর্তী আবহাওয়ার বুলেটিনের দিকে নজর রাখা জরুরি।

বুধবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বাড়বে বৃষ্টির দাপট

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বেশির ভাগ জেলায় আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে শুষ্ক থাকতে পারে। তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

বুধবার থেকে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ার মতো জেলাগুলিতেও ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

দক্ষিণবঙ্গের ছ’টি জেলায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত বৃষ্টির দাপট বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এই জেলাগুলিতে বৃষ্টির পরিমাণ ৭০ থেকে ১১০ মিলিমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

আরো পড়ুন:  কালবৈশাখীর তাণ্ডবে উড়ে গেল ঘরের ছাউনি, খোলা আকাশের নিচে অসহায় পরিবার

সমুদ্র উত্তাল হওয়ার আশঙ্কা, সতর্ক মৎস্যজীবীরা

সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ বাড়তে পারে। পশ্চিমবঙ্গ উপকূল সংলগ্ন সমুদ্রেও উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মঙ্গলবার থেকে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে বলে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকায় সতর্কতা জারি থাকায় মৎস্যজীবীদের প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড়ের গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী সমুদ্রের পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তাই গভীর সমুদ্রে থাকা মৎস্যজীবীদের জন্যও সতর্কবার্তা গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রে যাওয়ার আগে আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ নির্দেশিকা দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির পূর্বাভাস

শুধু দক্ষিণবঙ্গ নয়, উত্তরবঙ্গের আবহাওয়াতেও পরিবর্তন আসতে পারে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

তাপমাত্রায় এখনই বড় পরিবর্তন নয়

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রায় খুব বেশি পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তবে পরবর্তী সময়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টি বাড়লে তাপমাত্রার অনুভূতিতেও পরিবর্তন আসতে পারে।

সব মিলিয়ে, আগামী সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের চূড়ান্ত গতিপথ ও বাংলায় তার প্রভাব কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপর। তাই সাধারণ মানুষ, মৎস্যজীবী এবং উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের আবহাওয়া দফতরের পরবর্তী সতর্কবার্তার দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments