Sharanya Ghosh: দুর্গাপুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই বাঙালির ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে আর এক উৎসবের প্রস্তুতি। আগামীকাল, রবিবার ২৫ অক্টোবর পালিত হবে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনায় মেতে উঠবেন অগণিত ভক্ত।
বাংলার সংস্কৃতিতে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও পারিবারিক মঙ্গল কামনার এক বিশেষ উপলক্ষ। বাড়ির উঠোন থেকে পুজোর ঘর—সর্বত্রই দেখা যাবে চালের গুঁড়ি দিয়ে আঁকা সুন্দর আলপনা, প্রদীপের আলো এবং দেবী লক্ষ্মীর পুজোর আয়োজন।
এই পুজোর অন্যতম আকর্ষণ লক্ষ্মীর পাঁচালি পাঠ, ধান-দূর্বা নিবেদন এবং নারকেলের নাড়ু, মোয়া, ফল ও অন্যান্য ভোগের আয়োজন। অনেক পরিবারে প্রচলিত রীতি মেনে সারা রাত জেগে দেবীর আরাধনাও করা হয়।
‘কোজাগরী’ শব্দটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ‘কো জাগর্তি’—অর্থাৎ ‘কে জেগে আছো?’ এই প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, শারদ পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মী মর্ত্যে বিচরণ করেন এবং জেগে থাকা ভক্তদের আশীর্বাদ করেন। সেই বিশ্বাসকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে এই উৎসবের বিশেষ ঐতিহ্য।
চলতি বছর ২৫ অক্টোবর পূর্ণিমা তিথি শুরু হবে সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে এবং শেষ হবে ২৬ অক্টোবর সকাল ৯টা ৪১ মিনিটে। তবে পুজোর নির্দিষ্ট সময়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় পঞ্জিকা ও পারিবারিক রীতি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
দুর্গাপুজোর আনন্দের পর কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো বাঙালির জীবনে নিয়ে আসে এক শান্ত, স্নিগ্ধ ও পারিবারিক আবহ। প্রদীপের আলো, আলপনার নকশা আর ভক্তির আবেশে আগামীকাল আবারও সেজে উঠবে বাংলার অগণিত ঘর।
বিশ্বাস, ঐতিহ্য আর সমৃদ্ধির প্রার্থনায়—শুভ কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো।

Recent Comments