উৎসবের আবহের মধ্যেই ফের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়াল কলকাতায়। শুক্রবার নিউটাউনে সিটি সেন্টার টু-এর পিছনে একটি ঝুপড়ি এলাকায় ভয়াবহ আগুন লাগে। আগুনের তীব্রতায় একের পর এক গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের খবর সামনে এসেছে। এই ঘটনায় প্রায় ২০ থেকে ২৫টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। আগুন ছড়িয়ে পড়তেই প্রাণ বাঁচাতে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন বাসিন্দারা।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের তিনটি ইঞ্জিন। আগুন যাতে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে না পড়ে, সেই চেষ্টা চালান দমকলকর্মীরা। উদ্ধারকাজে হাত লাগান স্থানীয় বাসিন্দারাও। তবে কী কারণে আগুনের সূত্রপাত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পরেই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে বলে দমকল সূত্রে খবর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আগুনের গ্রাসে চলে যাওয়া ঘরগুলির পাশে রয়েছে একাধিক বহুতল। ফলে আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এলাকার মানুষ। আগুন লাগার পরেই দ্রুত এলাকা ছাড়তে শুরু করেন বাসিন্দারা। গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।
এক স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, আগুন লাগার সময় বেশ কয়েকটি ঘরে প্লাস্টিকের সামগ্রী নিয়ে কাজ চলছিল। আগুনের জেরে ঘরগুলির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়েছিল। অন্য একটি সিলিন্ডার সেখান থেকে বের করে আনতে সক্ষম হন তাঁরা। আগুনে বহু সম্পত্তির ক্ষতি হলেও বাসিন্দারা প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এক স্থানীয় মহিলার দাবি, প্রায় এক মাস আগেই তিনি ওই এলাকার বাসিন্দাদের ঝুপড়ি নির্মাণ এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য, ওই এলাকায় বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও ভয়াবহ হতে পারত।
এই অগ্নিকাণ্ডে ঠিক কত টাকার সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। পাশাপাশি আগুন লাগার কারণ সম্পর্কেও কোনও চূড়ান্ত তথ্য সামনে আসেনি। আপাতত দমকলের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। ঘটনার জেরে নিউটাউনের ওই এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।


Recent Comments